রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা: মাদক নয়, খেলাধুলায় কাটুক আমাদের অবসর — ইউএনও ফখরুল ডেঙ্গু প্রতিরোধে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে ‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’-এর পরিচ্ছন্নতা অভিযান সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ঘরে ঘরে আতঙ্ক, দুই দিনের ব্যবধানে মৃত্যু ২, হাসপাতালে ভর্তি ১৩ সীতাকুণ্ড জাফর নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে ইউএনও ফখরুল ইসলাম সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম ফের জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যানের বাঁশবাড়িয়া ফেরীঘাট পরিদর্শন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যুবকের মৃত্যু সীতাকুণ্ডে মধ্যরাতে আগুন: পুড়ে ছাই ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অটোরিকশা তারাপুর চা-বাগানে দিনে উচ্ছেদ, রাতেই অস্ত্রের মুখে দখল! চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত: গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন ও অস্ত্র-মাদক উদ্ধারে বিশেষ নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিঃ

সারাদেশে  প্রত্যেক  বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ই-মেইল-Mmdidar7@gmail.com মোবাইলঃWhatsApp&Imo:01878518066 #বিশ্বব্যাপী আপনার প্রতিষ্টান ও পন্যের প্রচার প্রসারে বিজ্ঞাপন দিন

সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারি ইরানের নির্মম নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু: নেপথ্যে পুলিশের অসাধু চক্র

  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা:

​চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারি মো. নুরুল ইসলাম প্রকাশ ইরানের (৫০) নির্মম নির্যাতনে নাইম (৩০) নামের এক যুবকের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীতাকুণ্ড মডেল থানার কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন এই ইরান।

ঘটনার বিবরণ

​স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ড উপজেলার ৪ নম্বর মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম প্রকাশ ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

​সম্প্রতি ইরানের কিছু ইয়াবা তার এক খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে হারিয়ে যায়। ওই বিক্রেতা নিহত নাইম ইয়াবাগুলো আত্মসাৎ করেছে বলে ইরানকে জানায়। এর জেরে গত ২০ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শুরুর আগে রাত ১০টার দিকে নাইমের ঘর থেকে তাকে তুলে নিয়ে সিএনজি স্টপেজ মোড়ে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে ইরানের সন্ত্রাসী বাহিনী। সে সময় নাইমের বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। স্থানীয় দোকানদার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ইরানের ভয়ে এগিয়ে আসার সাহস পাননি।

​পরে নাইমকে সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে ইরানের বাড়ির সামনে নিজস্ব গোডাউনে নিয়ে অকথ্য ও নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। রাত দুইটার দিকে তাকে নাইমের ঘরের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। নাইমের গোঙানি শুনে তার ছোট চাচা ঘর থেকে বের হয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাইম মারা যান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও অপরাধ সাম্রাজ্য

​ইরানের ত্রাসের রাজত্বে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলেই বাড়িছাড়া হতে হয় কিংবা জরিমানার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। মানুষের ঘরবাড়ি জবরদখলেরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় জনপদ।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অধিকাংশ মানুষের অভিযোগ, এই সমাজধ্বংসী মাদকের ব্যবসার পেছনে মডেল থানার কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার হাত রয়েছে। পুলিশি অভিযানের পূর্বাভাস আগেই পেয়ে যান ইরান, যার ফলে তিনি সহজেই আড়ালে চলে যেতে পারেন।

​এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল হক এবং এজাহার মেম্বারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এজাহার মেম্বারের দাবি, ইরান আওয়ামী লীগের আমলেও এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “আমি আইন-শৃঙ্খলা সভায় সব সময় মাদক ব্যবসায়ী ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতার কারণে ইরান একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে এবং দেদারছে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।”

​এর আগেও গত কয়েক মাস আগে ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড শিবপুর গ্রামের আবুল মনছুরের ছেলে শামীমকে (৩০) পিটিয়ে হত্যা করে ইরান। ওই ঘটনায়ও সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলা রয়েছে।

পরিবারের আকুতি ও প্রশাসনের বক্তব্য

​নিহত নাইমের পিতা মো. খোকন তার সন্তানের হত্যাকারী ইরান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সর্বোচ্চ ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরকার, জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উচ্চ মহলের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি আমি মাত্র শুনেছি এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকারী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। এছাড়া মাদকের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024

Theme Download From ThemesBazar.Com
Translate »