
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ
জন্ম হওয়ার আগেই নিয়ত করে রেখেছিলাম ছেলেকে কোরআনে হাফেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। কিন্তু ছেলেকে যখন হেফজখানায় দিয়েছি তখন সে বারবার বলছিল সে হেফযখানায় থাকতে পারবেনা। সব সময় আল্লার কাছে ফরিয়াদ করতাম মহান আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে একজন কোরআন হাফেজ হিসেবে কবুল করেন। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হল। আমার ছেলের মাথায় পাগড়ি পরিধানে মনে হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালার সর্বোচ্চ নেয়ামত টাই আমাকে দিয়েছে।
একজন সন্তানকে কোরআনে হাফেজ হিসাবে তৈরি করতে হলে অবশ্যই মা-বাবার মনোবল শক্ত ও ধৈর্য ধরতে হবে। এসব কথা বলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের মাহমুদুল হক ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসিনা আক্তার হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার কোরআনে হাফেজ ও পাগড়ী পাওয়া হাফেজ শাফায়াতের মা রিনা আক্তার। শুধু হাফেজ সাফায়েত নয় একসাথে ৩৫ জন কোরআনে হাফেজকে পাগড়ি প্রদান করে সম্মাননা দিয়েছেন হেফজ বিভাগ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ) বিকেলবেলা মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে পাগড়ি প্রদানকে কেন্দ্র করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠানে আসা অভিভাবকরা ছেলেদের এমন কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ড. আলী হুসাইন। প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, একজন কোরআনের হাফেজ পুরো পরিবারের জন্য আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতের দরজা খুলে দেন। তিনি কোরআনের হেফাজতকারী, আল্লাহর বাণীর বাহক। এ কারণে কোরআনের হাফেজ যেমন মর্যাদাবান তেমনি তার মা-বাবাও পান অনন্য মর্যাদা। পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পাগড়ী পাওয়া কোরআনে হাফেজরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে মা-বাবা ও প্রতিষ্ঠানের সম্মান বয়ে আনবে।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক্যাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বোরহান উদ্দিন।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মাহমুদুল হক দাখিল মাদ্রাসা ও হাসিনা আক্তার হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি জয়নাল আবেদীন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মাসুদ,হাফেজ মো: তাহের, মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply