ভূরুঙ্গামারীতে মাওলানা ভাসানীর ৪৯ তম ওফাৎ দিবস পালন।

খন্দকার স্বপন (ভূরুঙ্গামারী)

ভূরুঙ্গামারীর ভাসানী নগরে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নিজ বাড়িতে ৪৯ তম ওফাৎ দিবস উপলক্ষে, ওরশ শরিফ পালন করা হয়। ১৭ নভেম্বর সোমবার এই ওরশ শরিফ অনুষ্ঠানটি নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে অত্যন্ত ধুম ধামের সহিত পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল মিলাদ শরীফ, হাল্কা, জিকির, ওয়াজ মাহ্ফিল ও তবারক বিতরণ। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী কয়েক হাজার ভক্তবৃন্দ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কর্ম জীবনি নিয়ে নানাবিদ আলোচনা ও হালকা জিকিরের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটি মুখরিত করে তুলেন। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় বক্তাগন ভাসানীর সংক্ষিপ্ত জীবনি তুলে ধরেন,এ থেকে জানাযায় মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালেের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার সয়াধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর রাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সব চেয়ে ছোট ছিলেন।তাঁর ডাকনাম ছিল ছেগা মিয়া। তাঁর বাবার নাম ছিল হাজী শরাফত আলী খান ও মাতা মজিরন নেছা।শৈশবে তিনি পিতৃ মাতৃ হীন অবস্থায়, তাঁর চাচা ইব্রাহিম খানের আশ্রয় ছিলেন। অতঃপর তিনি সুফি সাধক নমিরুদ্দিন বোগদাদী (রঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ করেন। এবং তাঁর সহচর্যে ১৮৯৭ সালে সর্ব প্রথম তিনি আসাম গমন করেন। ১৯২৪ মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আসামের ভাসান চরে এক বিশাল কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠান করেন এবং সেখান থেকেই তিনি ভাসানী উপাধি লাভ করেন। তাছাড়া এই ওরশ শরিফ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওনানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি মোঃ মনির খান ভাসানীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রতি বছর শ্রদ্ধার সাথে আমরা এই দিন টি পালন করে অসছি। বাড়ির সামনের এই পুকুর টি, ভক্তগনকে সাথে নিয়ে আমার দাদু নিজের হাতে মাটি কেটে খনন করেছেন।আমার দাদু অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন, যার নির্দশন আজও বহন করছে, বাড়ির বাহির আঙ্গিনার দরবার শরিফে,মুশাফির খানায়, দাদুর ব্যাবহৃত একটি হাতল চেয়ার, একটি সিন্দুক ও একটি খাট। দাদুর সাধামাটা জীবনের এই চিহ্ন গুলি দেখে ভক্তগন অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দাদুকে সরণ করে।ভক্তগন যাতে দাদুর সঙ্গে দাদীমাকেও সরণ রাখে, সেইজন্য আট বিঘা জমি দান করার মধ্যমে ১৯৬৭ সালে দাদীমার নামে এই এলাকায়, “হামিদা খনম” নামে একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। যা বাংলাদেশের একটি খ্যাতনামা বিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত। তার কাছে মুশাফির খানার পার্শ্বের মাজার শরিফ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা মুশা ফকিরের মাজার, উনি দাদুর একান্ত ভক্ত ছিলেন,তাই তাকে এখানেই সমাধিত করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান এই ওরশ শরিফ অনুষ্ঠানে অনেক অর্থের প্রয়োজন,কিন্তু সরকারি সাহায্য আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।তিনি আরো বলেন দাদুর এই ওফাত দিবস আরো উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে প্রতিবছর যেন ধুমধামে শহীদ পালন করতে পারি সে তৌফিক যেন আল্লাহ্ আমাদের দানকরেন।

Didar

Recent Posts

গাজীপুর থেকে মোটরসাইকেলে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সীতাকুণ্ডে দূর্ঘটনায় নিহত

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ ঈদের ছুটি আনন্দে কাটাবেন বলে ১২ জন বন্ধু মিলে মোটর সাইকেল যোগে…

19 hours ago

সীতাকুণ্ডে এনসিপির ঈদ পুনর্মিলনী সিস্টেম পরিবর্তন ও রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান

  কাইয়ুম চৌধুরী সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ সীতাকুণ্ড জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ঈদ পূর্ণ মিলনী…

19 hours ago

কারাগারে উন্নত খাবার, নতুন কাপড় পরিবেশন,আইজিপি শহিদুল,মমতাজ,আইভি ও পেয়েছেন

কাইয়ুম চৌধুরীঃ ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার সহ দেশের সবগুলো কারাগারে বন্দিদের নতুন পোশাক…

2 days ago

পতেঙ্গা সৈকতে বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় : ঈদের উৎসব যেন এখানেই..!

কাইয়ুম চৌধুরীঃ- ঈদ মানে আনন্দ,ঈদ মানে খুশি ..! সেই অনাবিল আনন্দ বিনোদনের জন্য পতেঙ্গা সমুদ্র…

2 days ago

সীতাকুণ্ডের মাদামবিবিরহাটে তুচ্ছ ঘটনায় যুবককে পিটিয়ে হত্যাকরেছে প্রতিবেশী

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তুচ্ছ ঘটনা লেবু গাছকে কেন্দ্র করে মোঃ রাজু (৩০) নামে…

3 days ago

জগন্নাথপুরে ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ, জরিমানা আদায়

জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পবিত্র মাহে রমজান মাসে গ্যাস সহ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রনে মাঠে রয়েছে…

5 days ago

This website uses cookies.