
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে পৌরসভা গেটের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এক পক্ষ মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান করতে না পেরে বাঁশবাড়িয়া বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায় সেখানে আসলাম গ্রুপের উপর সালাউদ্দিন গ্রুপের লোকজন হামলা ও দোকানপাট ভাংচুর করে, এতে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিএনপি নেতা মুনসুর মেম্বার গুরুতর আহত হয়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে একই স্থান ও সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীরা; অপর পক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা।
পুলিশ প্রশাসন আসলাম চৌধুরীর পক্ষকে দুপুর ১টায় এবং কাজী সালাহউদ্দিনের পক্ষকে বিকেল ৩টায় সভা করার সময় নির্ধারণ করে দেয়। সে অনুযায়ী সকাল থেকেই দুই পক্ষ পৃথকভাবে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে পৌরসভা গেট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায় এবং পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়ে এক ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মারধরের শিকার হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
বৃষ্টির মধ্যেই আসলাম চৌধুরীপন্থী অন্তত এক হাজার নেতাকর্মী পৌরসভা গেট এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল ও সমাবেশ করেন। অন্যদিকে, কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা পৌরসদরস্থ মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান করতে না পেরে বাঁশবাড়িয়া বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘ যানজটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর গাড়িবহরও আটকে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নিলে আসলাম চৌধুরী সভায় এসে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকায় বড় ধরনের কোনো অঘটন এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “পুলিশের একটি টিম বাঁশবাড়িয়া মহাসড়কে ব্যারিকেড সরানোর কাজ করছে।”
মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে অনুষ্ঠান করার নির্দেশনা দিয়েছি। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের নজর আছে।”
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply