
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জোড়আমতল এলাকায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে (KYRC) রেলওয়ে ভূমি ও গোডাউন বুঝিয়ে দিতে গিয়ে স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে পড়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। শত শত নারী, পুরুষ ও শিশুর প্রতিরোধ ও বিক্ষোভের মুখে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে ফিরে যেতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে যাওয়ার সময় বসতিবাসীদের নিজ উদ্যোগে জায়গা ছাড়ার জন্য এক মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে জোড়আমতল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে রেলওয়ে ভূমি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। এসময় ওই এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৩০০ পরিবারের সদস্য, নারী, পুরুষ ও শিশুরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। উচ্ছেদ কাজের জন্য কারখানায় দুটি এক্সকাভেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এনে রাখা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়।
বিক্ষুব্ধ বসতিবাসীদের দাবি, তারা ও তাদের পূর্বপুরুষরা শত বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছেন। তাদের স্থায়ী কোনো বসতভিটা নেই, তারা সবাই নদীভাঙা মানুষ। কোনো একটি শিল্প গ্রুপ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হলে তা তারা কখনোই মেনে নেবেন না। পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত তারা এই জায়গা থেকে নড়বেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু নাছের বলেন, “রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরীহ মানুষদের বসতি উচ্ছেদ করে সেই ভূমি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে দখল করে দেবে—তা হতে দেওয়া হবে না।”

অভিযান চলাকালে সহকারী সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলমকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন স্থানীয়রা। পরে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে চলে যাওয়ার সময় দায়িত্বরত রেলওয়ে কর্মকর্তারা কোনো তথ্য জানাতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে বসতিবাসীদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে এক মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় স্থানীয় সমাজসেবক ইফতেখার আহম্মদ জুয়েল জানান, স্থানীয়দের বাধার মুখে অভিযান স্থগিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা শেষে নিজ নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে উচ্ছেদের পূর্বে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করবেন বলে জানানো হয়েছে।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী সচিব ও বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী।
শ্রমিক দলের নেতা মো. রবিউল ও স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র রেলওয়ের ওই জায়গাটি জবরদখল করে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে (KYRC) পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে রেলওয়ের সম্পত্তি বাণিজ্যিকভাবে লিজ দেওয়া বন্ধ থাকলেও একটি মহল নানা কৌশলে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। রেললাইনের ২২/৪ থেকে ২২/৭ নম্বর পিলার পর্যন্ত এবং পশ্চিমে প্রায় মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৫ একর রেলভূমি রয়েছে। একসময় এখানে রেলের স্টোর বা ডিপু থাকলেও কালের পরিবর্তনে তা বিলুপ্ত হয়ে এখন শুধু একটি গোডাউন বিদ্যমান রয়েছে। যুগ যুগ ধরে কেউ রেলের কাজ করে, আবার কেউ বিভিন্ন উপায়ে এখানে বসবাস করে আসছেন।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply