
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় চালক ও হেলপারসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার পন্থিছিলা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালকের নাম মো. ছালেহ আহম্মেদ সেলিম (৪৬)। তিনি রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার নাছনিয়া এলাকার মো. মহসিন আলীর ছেলে। এছাড়া নিহত ট্রাক সহকারী (হেলপার) মো. সোহরাব হোসেনের (৩৫) বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, রংপুর থেকে মালামালবোঝাই ট্রাকটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে পন্থিছিলা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় একই লেনে চলাচলকারী একটি কাভার্ডভ্যান হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনের ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের কেবিন দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক ও হেলপার ভেতরে আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিরা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন প্রতিনিধিকে জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, গত দুই মাসে এই এলাকায় প্রায় ১০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে ১২ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেলেও হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর কোনো তদারকি নেই। দুর্ঘটনা ঘটলে কেবল গাড়ি জব্দ ও লাশ মর্গে পাঠানোই যেন তাদের মূল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গত ৬ মাস ধরে সীতাকুণ্ডে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি না থাকায় মহাসড়ক তদারকিতে ঢিলেঢালা ভাব চলছে। বর্তমানে শুধু গাড়ির কাগজপত্র চেক ও জরিমানা আদায় করাই তাদের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply