কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মাইশা মুসফিরাতের (২১) মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক লরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনকে (৩২) গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত রিয়াজ উদ্দিন নোয়াখালী সদর মডেল থানার ভাটিরটেক গ্রামের মো. আবু তাহেরের ছেলে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনায় জড়িত লরিচালক রিয়াজকে গ্রেফতার করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় সীতাকুণ্ডের কুমিরাস্থ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কের মুখে একটি লরি মিনিবাসকে ধাক্কা দিলে তা উল্টে যায়। এতে বাসের নিচে চাপা পড়ে বাড়ি যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আইআইইউসির শিক্ষার্থী মাইশা মুসফিরাত ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের আশ্বাস ও ৫ দফা দাবি মানার প্রতিশ্রুতিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। ফলে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লরিচালককে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা।
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জেলা পুলিশ ঘাতক লরিচালককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় ডিবি পুলিশের অভিযানে আসামি গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা ৫ দফা দাবির প্রধান বিষয়গুলো ছিল—(১) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে, (২) ঘাতক চালককে গ্রেফতার করতে হবে, এবং (৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দুপাশে কোনো ট্রাক দাঁড় করানো যাবে না। ইতোমধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তবে ৪ নম্বর দাবি মানতে গিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে স্পিডব্রেকার বসানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম আপত্তি ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্পিডব্রেকার দিলে যানজট, দুর্ঘটনা ও রাতে ডাকাতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ শুক্রবার সকালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পিডব্রেকারগুলো অপসারণ করেছে।
সচেতন মহলের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে স্পিডব্রেকারের বদলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন। সেই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতিসীমা ৩০-৩৫ কিলোমিটার নির্ধারণ এবং তা অমান্যকারী দ্রুতগতির যানবাহনকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করে মামলা ও জরিমানার ব্যবস্থা করাই দুর্ঘটনা রোধের স্থায়ী সমাধান।
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম লিবার্টি এবং ডিজেবিলিটি কেয়ার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে…
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরি ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগাংয়ের…
নিজস্ব প্রতিবেদক, সীতাকুণ্ড: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং দৈনিক আজাদীর সীতাকুণ্ড…
নিজস্ব প্রতিবেদক, সীতাকুণ্ড: জাতীয় রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সিকিউরিটির সামনে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক…
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকমল আলী রোড সংযোগ সড়ক এলাকায়…
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি,…
This website uses cookies.