চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে সন্ত্রাসী রায়হান, বড় সাজ্জাদসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে চক্রটির ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে হত্যাকাণ্ড এবং ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’—এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার একজন ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং পূর্বে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয়কে অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করলেও গ্রেফতারকৃতরা নিজেদের একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিল। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করা এবং পরবর্তীতে সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করাই ছিল তাদের মূল কৌশল।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোঃ তারেক আজিজের নেতৃত্বে হাটহাজারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মেদসহ সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্সের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারী থানাধীন ভুলিয়াপাড়া ও খন্দকিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন মাজার এলাকা এবং খুলশী থানাধীন দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে চক্রটির ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা:
উদ্ধারকৃত আলামতঃ
১টি তলোয়ার, ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি, ১টি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরসহ ৪টি মোবাইল ফোন।
আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ২টি, চাঁদাবাজির ২টি, অপহরণের ১টি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১টি, ডাকাতির প্রস্তুতির ১টি এবং হত্যাচেষ্টার ১টিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে। মোঃ মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত ১টি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির ১টিসহ ২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মোঃ রিকু, মোঃ তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ২টি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১টিসহ ৩টি করে মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাধীন চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে পুলিশ। পাশাপাশি চক্রটির অন্যান্য সদস্য ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে পৃথক জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয়…
বিশেষ (চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের চন্দনাই উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে…
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড: সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরাবাদ গ্রামে গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার…
কাইয়ুম চৌধুরী: যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে…
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ধাপভিত্তিক তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে…
নিজস্ব প্রতিবেদক: সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন আপিল বিভাগে বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু…
This website uses cookies.