ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে যথাযথ মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ১৬ জুলাই “জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬” পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ ১৬ জুলাই সকাল ১০ ঘটিকায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা, মোনাজাত ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় জুলাই আন্দোলনের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। একই সাথে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব অমৃত দেব নাথের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক মোঃ রোকনুজ্জামান রোকনের সঞ্চালনায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় ভূরুঙ্গামারীতে সংঘটিত জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন স্থানীয় বীর যোদ্ধারা।
আন্দোলনের বিবরণ দিতে গিয়ে আহত জুলাই যোদ্ধা মোঃ এনামুল হক, মোঃ আব্দুল লতিফ ও মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই ভূরুঙ্গামারীতে প্রথম গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট জামতলায় আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা বর্বরোচিত হামলা চালায়, যার ফলে বহু ছাত্র-জনতা আহত হন। এরপর ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে থানা অভিমুখে রওনা দিলে এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে, এতে আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।
বক্তব্যে আহত জুলাই যোদ্ধারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা ২৫ জন হলেও প্রকৃত আহত ও লাঞ্ছিতের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাঁরা এখনও অবহেলিত রয়ে গেছেন এবং অনেকে চরম চিকিৎসা ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন। তাঁরা দৃঢ় কণ্ঠে দাবি জানান, বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয় এবং সাধারণ মানুষ যেন চাঁদাবাজি ও দখলবাজি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে।
উক্ত আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক জনাব আলা উদ্দিন মন্ডল, সদস্য সচিব জনাব শহিদুল ইসলাম আকন্দ এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল (সাধারণ সম্পাদক) জনাব মোঃ ফেরদৌস হোসেন। এছাড়াও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা জুলাইয়ের আহত ও নির্যাতিত বীরদের পাশে অতীতেও ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। নতুন বাংলাদেশে আমরা সর্বদা যেকোনো ধরণের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছি এবং এই সামাজিক প্রতিরোধ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব অমৃত দেব নাথ জুলাই আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে শহিদদের আত্মার শান্তি ও দেশের সামগ্রিক কল্যাণে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply