
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ
চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে একদিকে চলছে পাহাড় কাটা আর অপরদিকে মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা, সরকারি জায়গা শত বছরের পুকুর-জলাশয় ভরাট, দখলের হিড়িক, চলছেই চলছে। সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘেরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে সলিমপুর , ভাটিয়ারী , কুমিরা, বাড়বকুণ্ডে বিভিন্ন কারখানা সম্প্রসারণ করতে গিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা প্রকাশ্যে কাটছেন পাহাড়। অপরদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে চলছে সওজপদ জায়গা , পুকুর, জলাশয় ভরাটের মাধ্যমে দখলের প্রকাশ্য মহোৎসব চলছে। যার দরুন বর্ষকালে সমগ্র সীতাকুণ্ড উপজেলা মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সিটি গেইট,সলিমপুর থেকে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা, সরকারি পুকুর ও জলাশয় দখল করে প্রভাবশালী মহল প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছেন দোকান পাট, গ্যারেজ ও স্থায়ী স্থাপনা। এতে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে গিয়ে বাড়ছে নিত্য যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়বকুণ্ড থেকে কুমিরা, ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, ফৌজদারহাট হয়ে চট্টগ্রাম সিটি গেট অতিক্রম করে দারোগাহাট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলছে দখল ও ভরাট কার্যক্রম। সড়কের পাশের নালা ও সরকারি পুকুর ভরাট করে কোথাও দোকান, কোথাও বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের অংশও দখল হয়ে গেছে। এছাড়া সীতাকুণ্ড উপজেলা জুড়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা তাদের কারখানা সম্প্রসারণ করতে গিয়ে যে হারে পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করে চলছেন যার দরুন পুরো সীতাকুণ্ড উপজেলা যেকোনো মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর , বনবিভাগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জায়গা, জলাশয়, পুকুর অবৈধ দখল মুক্ত করতে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহের নিস্ক্রীয়তায় সীতাকুণ্ড উপজেলা জুড়ে বনবিভাগের মালিকানাধীন পাহাড়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পূর্বপাশ্বে সওজ জায়গা, সরকারি পুকুর, জলাশয় যে যেভাবে পারছেন সেই ভাবে দখল করে দোকান পাট, বসতবাড়ি নির্মাণ করছেন, বর্ষাকালে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানিগুলো কিভাবে নিস্কাসন হবে এনিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই। পাহাড় কেটে ইট তৈরী করছেন, করছেন কারখানা সম্প্রসারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দখলবাজীর পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তিদের ছত্রছায়া। ফলে প্রশাসনের নীরবতায় প্রকাশ্যেই দখল চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এলাকা সমূহের একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে ভরাট ও দখল চল্লেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। প্রতিবাদ করলেই হয়রানির শিকার হতে হয়।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন,এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কের পাশে এভাবে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিত্য যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে। পাশাপাশি সওজের জায়গা ও জলাশয় ভরাটের কারণে পানি নিস্কাশনের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম জন দুর্ভোগ দেখা দিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীদের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহ দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটা বন্ধ ও মহাসড়ক সংলগ্ন সরকারি সম্পদ দখলমুক্ত না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে এবং জনগণ পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। সীতাকুণ্ড
সওজ বিভাগের দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি আমি সীতাকুণ্ড,মীরসরাই দায়িত্ব পাৱন করি,তাই দখলের বিষয়টি অবগত নই,তবে আমি খবর নিয়ে দেখবো, সওজ জায়গা দখল হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্হা নেবো।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply