
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ
সীতাকুণ্ডে মোকবুলার রহমান জুট মিল সহ একে একে ৫ টি জুট মিল কন্টিনার ডিপু( লজিষ্ট্রিক ডিপু) দুটি কটন মিল কনজুমার কোম্পানীরগুদাম হিসেবে ব্যবহুত হচ্ছে।
বারবকুণ্ডস্হ মোকবুলার রহমান জুট মিলটি অতিসম্প্রতি টি কে গ্রুপ থেকে একটি কোম্পানী ক্রয় করে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে মিলের মারিকানাধীন পাহাড় কেটে সমতল ও সাড়ে ৪ হাজার ফলন্ত গাছ নিধন করে অবৈধভাবে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের দায়ে একেএইচ লজিস্টিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের দণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি এক কর্মচারী কে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ভ্রাম্যমান আলাদত।
গতকাল বিকালে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড বাজারের পূর্ব পাশে মকবুলার রহমান জুট মিলের ভিতর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন , পরিবেশ দপ্তরের কর্মকর্তা চন্দন বিশ্বাস ও সীতাকুণ্ড থানার একটি চৌকস দল।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাড়বকুণ্ড এলাকায় এ কে এইচ লজিস্টিকস অবৈধভাবে একটি বিশাল পাহাড় কেটে সমতল করছিল। প্রভাবশালী মহলের সরাসরি মদদে পাহাড় কাটার পাশাপাশি একটি বড় পুকুরও ভরাট করে আসছিল তারা। টার্মিনাল নির্মাণের নামে তারা এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তাছড়া এই কনটেইনার টার্মিনাল করার জন্য ওই এলাকায় থাকা আম, জাম, কাঁঠাল ও জামরুলসহ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সবুজে ঘেরা পাহাড়কে মরুভূমিতে রূপান্তর করে বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিলের এই চিত্র দেখে খোদ অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ধায় চালানো এই অভিযানে অপরাধের সত্যতা পাওয়ার পর পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি হাতেনাতে প্রমাণিত হয়।
অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে একেএইচ লজিস্টিক্সের কর্মচারী ফরিদ আহমেদকে (৫০) ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত ফরিদ আহমেদ ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার সাভার নবীনগর এলাকার মৃত ফজলুল হকের ছেলে। একই সাথে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, একেএইচ লজিস্টিকস লিমিটেড প্রকল্পের অনুকূলে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা জেলা প্রশাসন—কারো কাছ থেকেই কোনো অনুমোদন নেয়নি। পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট এবং নির্বিচারে গাছপালা কাটা পরিবেশের ওপর এক ধরণের অপরাধ। আমরা এই প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম জানান, পরিবেশ রক্ষায় সীতাকুণ্ডে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাটের মতো পরিবেশবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেকদিন ধরে আড়ালে পাহাড় কাটা চললেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
তবে পরিবেশবাদীদের দাবি, যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে এবং পাহাড়ের যে ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় ২ লাখ টাকা জরিমানা খুবই সামান্য।
মোকবুলার রহমান জুট মিল ছাড়াও এসকেএম জুটমিল,আর আর জুট ও টেক্সটাইল মিল, হাফিজ টেক্সটাইল মিল,সালেহ কার্পেট মিল,ন্যাশনাল কটম মিলস,সহ বিভিন্ন মিলগুলো এখন
লজিষ্ট্রিক ডিপু হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে বাড়ছে যানজট,বেকার সংখ্যা, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply