
দিদার টুটুলঃ
সীতাকুণ্ডে ছলিমপুর ইউনিয়নের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ধর্ষণ, হত্যা, দখলবাজীসহ সংঘাতপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য নিয়ে অত্র উপজেলারইতিহাসে অন্যতম বড় অভিযান চালানো হয়েছে।

জানা যায়, গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে এই অভিযান শুরু করে। অভিযান শেষ হয় বিকাল ৫ টায়। এই অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনা সদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব সদস্য এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। অভিযানের সময় ৫/৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ভোর থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথেই তল্লাশি চৌকি বসানো হয়, যাতে অভিযানের সময় কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়। এমনকি আকাশ পথে নজরদারীর জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি মাটির নিচে বা ঝোপ ঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও
বিস্ফোরক শনাক্তে ডগ স্কোয়াড কাজ করে।

ভবিষ্যতে এই এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার যে পরিকল্পনা গুলো গ্রহণ করে ছিল। কিন্তু সে গুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতায় সেই বাধা দূর হয়। এখন থেকে সরকার পূর্বে গ্রহণ করা পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সলিমপুর এলাকা শহরের খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও এতদিন প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড়
সমস্যা ছিল। বিষয়টি অনেক আগেই সমাধান হওয়া উচিত ছিল। সম্প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার কারণে প্রশাসনের মনোযোগ সেদিকে ছিল।
উল্লেখ্য গত ১৯ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে র্যাব-৭-এর মেজর জালিস মাহমুদ খানের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়ে ছিল। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুষ্কৃতকারীদের অতর্কিত হামলায় র্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে চট্টগ্রাম সিএমএইচ হাসপাতালে নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া মারা যান। আরো ৩ জন র্যাব সদস্য আহত হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়। নৃশংস এ হত্যাকা-ের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে অনেকেই দেশের ভেতরে আরেকটি দেশ মনে করতো। দেশের ভেতরে আর কোনো “দেশ” থাকতে দেওয়া হবে না। এখানে আইন শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একটি বড় ধরনের ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও আমাদের আছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন দুপুরে প্রবেশ মুখে অভিযান পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘ দিনের প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ায় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply