
জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জাতীয় দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া চিফ (চট্টগ্রাম বিভাগ) হিসেবে কর্মরত সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম শ্রাবণের উপর মুখোশধারী সন্ত্রাসী কর্তৃক সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে। উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার পূর্ব হাছানদন্ডি এলাকায় গভীর রাতে এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এই সময় সন্ত্রাসীরা বেধড়ক মারধর, ছিনতাই ও গবাদিপশু চুরির মত জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম শ্রাবণ (পিতা: আব্দুল খালেক) জাতীয় দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া চিফ (চট্টগ্রাম বিভাগ) হিসেবে কর্মরত এবং তিনি দোহাজারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাছানদন্ডি এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে যুগের চাঁদ রাস্তার সংযোগ সড়কে পৌঁছালে ১০-১২ জন মুখোশধারী সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে হামলাকারীরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেয়। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করতে করতে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় এবং বাড়ি কোথায় ও ঘরে কে কে আছে তা জানতে চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে তার চোখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। হামলাকারীরা তাকে তার স্ত্রীকে ফোন দিতে বাধ্য করে; পরে ফোনটি বন্ধ হয়ে গেলে সেটিও নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে অচল করে ফেলে, ফলে তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পরে হামলাকারীরা তাকে তার চাচার বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর চাচার ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্বজনরা তালা খুলে তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর গোয়ালঘরে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের দুটি গরু নিখোঁজ।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, হামলাকারীরা একটি পিকআপযোগে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। হামলার পর স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, হামলাকারীরা সবাই মুখোশধারী ছিল এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশ স্থানীয় নয় বলে তার ধারণা। তিনি এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply