
দিদারুল হোসেন টুটুল, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আসন্ন চট্টগ্রাম – ৪ (সীতাকুণ্ড, আংশিক আকবর শাহ্ থানা ও পাহাড়তলী থানা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা চাঁদাবাজ ও দূর্নীতি মুক্ত সমাজ চায় বলে
জামায়াত বিএনপির দুই চৌধুরী’র নির্বাচনী দৌঁড় ঝাপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার আগে থেকেই জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে ঘুরে তার নাম ও দাঁড়িপাল্লার মার্কাটি সকলের মাঝে পরিচিতি হয়ে উঠে। তবে তফসিল ঘোষনার পর পর প্রথম নমিনেশন পেয়ে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিন উপজেলা জুড়ে চষে ঘুরে মাঠ তৈরী করে বিএনপির পক্ষে। পরবর্তীতে আসলাম চৌধুরী এফসিএ অনেক ঝড় ঝঞ্জা ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র পেরিয়ে নমিনেশন পান। তিনি ধানের শীষ মার্কা নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তিনি অত্র অঞ্চলের বিভিন্ন মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করে। তিনি অতীতে জনগণের সুখে দুঃখে থাকার কারণে ভোটারদের আকর্ষণ সৃষ্টি হলেও আগে থেকেই প্রচারনা চালানোর ফলে আনোয়ার সিদ্দিক এখন পর্যন্ত এগিয়ে। তবে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী যেভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এতে তার জনসমর্থন আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর চাঁদাবাজ ও দূর্নীতি মুক্ত সমাজ চায় বলে তরুণ ভোটাররা জামায়াতের প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। তাছাড়া আনোয়ার ছিদ্দিক হিন্দুদের ভোটও টানার চেষ্টা করছে। কারণ ৫ আগষ্টের পর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তার নেতাকর্মীদের নিয়ে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়ি পাহাড়া দেয়। এতে করে দাঁড়িপাল্লায় হিন্দুদের অধিকাংশ ভোট পড়ার সম্ভাবনা বেশী। বর্তমানে ত্রয়োদশ নির্বাচনকে ঘিরে গ্রামে গঞ্জে ভোটারদের মাঝে আলোচনা পর্যালোচনার দামামা বেজে উঠেছে। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এখন পুরোদমে মাঠে নেমে পড়ে। তবে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে মূল লড়াই হবে দুই চৌধুরী’র মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি। বিএনপির হেভিওয়েট ধানের শীষ প্রার্থী অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী। তারা দুই জনেই সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হবে বলে সচেতন মহল মনে করে।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী প্রচারনা তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে ভোটারদের অভিমত। এমনকি তারা জামানতও হারাতে পারেন অনেকে মনে করছে।
উল্লেখ্য সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন ১টি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আকবর শাহ্ থানা ও পাহাড়তলী থানা আংশিক নিয়ে চট্টগ্রাম – ৪ আসন গঠিত। এবার ভোট বেড়েছে ১৬ হাজার ৬৯ ভোটার। মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৮০৯ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন এবং পোষ্টাল ব্যালটের সংখ্যা ৫ হাজার ১৩৯ ভোট।
এদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমলেন্দু কনক বলেন, এবার হিন্দু ভোট ২ হাজার বেড়ে মোট হিন্দু ভোটার ৬৯ হাজার। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অনেক হিন্দু জানান, যে প্রার্থী আমাদেরকে চাঁদাবাজদের থেকে মুক্ত এবং নিরাপত্তা দিতে পারবে এধরনের যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিবো। ত্রয়োদশ নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে মাঠের প্রচারনায় আছে – ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা মার্কা মাওলানা ক্বারী দিদারুল আলম মাওলা, গণ অধিকার পরিষদ ট্রাক মার্কা এটিএম পারভেজ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আস্তে মছিউদ্দৌলা, ইসলামিক ফ্রন্টের মোমবাতি মোঃ সিরাজউদ্দৌলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা মার্কার শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের মাথাল মার্কা ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল আলম প্রঃ আল জাহিদ ও নেজামে ইসলাম পার্টির জাকারিয়া।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply