সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নলুয়ার হাওরে মাটি সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে পিছিয়ে পড়ছে বাঁধের কাজ


জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওরে মাটি সংকটে পিছিয়ে পড়ছে বাঁধের কাজ। এতে রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছেন পিআইসি কমিটির লোকজন। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বেকায়দায় রয়েছেন ৬, ৭, ৮ ও ৯নং পিআইসি কমিটি। তাদের মধ্যে কেউ সবেমাত্র কাজ শুরু করেছেন। আবার কেউ এস্কেভেটর মেশিন ও ডামট্রাক এনে বসিয়ে রেখেছেন। মাটি সংকটে কাজ করাতে পারছেন না। আর এসব প্রকল্পগুলো হচ্ছে, জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। যেখানে রয়েছে শালিকার বাঁধ। অতীতে শালিকার বাঁধ ভেঙে হাওরের উৎপাদিত বোরো ধান তলিয়ে গিয়েছিলো।


জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থান এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকার প্রকল্প। যেখানে আরো অনেক আগেই মাটিকাটার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। শুধু মাটি সংকটে তা পিছিয়েছে। উপায়ন্তর না পেয়ে পিআইসিরা অন্যত্র থেকে মাটি কিনে বর্তমানে কাজ শুরু করেছেন বলে জানান। এছাড়া অনেকে ডোবার পানি সেচ দিয়ে মাটি সংগ্রহ করছেন।


(২৯ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার দিন ব্যাপী নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০নং প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ৪, ৫, ৬ ও ১০নং প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক মাটিকাটার কাজ চলছে। ৭ ও ৯নং প্রকল্পে সবেমাত্র কাজ শুরু হয়েছে। ৮নং প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি। তবে বাঁধের গোড়ায় মাটিকাটার যন্ত্রগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। হয়তো আগামীকাল থেকে শুরু হবে।


এ সময় ৪নং পিআইসি কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য অনিল দাস জানান, আর সপ্তাহ খানেক কাজ করলেই আমার কাজ শেষ হয়ে যাবে। ৬নং প্রকল্পের পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ আলী, ৭নং প্রকল্পের পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু, ৮নং প্রকল্পের পক্ষে ইউপি সদস্য লিলু মিয়া ও ৯নং প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া জানান, হাওরে মাটি সংকটে আমরা বেকায়দায় আছি। ঠিকমতো কাজ করাতে পারছি না। এর মধ্যে মাটি কিনে কাজ করাতে হচ্ছে।


হাওরে জমিতে চারাধান পরিচর্যা করতে আসা আতাউর রহমান, কিরন মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক জানান, হাওরের পতিত মাটি তো অনেক আগেই কেটে নিয়েছেন পিআইসিরা। যেকারণে এখন মাটির আকাল চলছে। তারা শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আমরা কোন অজুহাত চাই না। সময়ের আগে বাঁধের কাজ শেষ করতে হবে। হাওর বাঁচাও আন্দোলন, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.শাহিদুল ইসলাম বকুল জানান, কৃষকদের কষ্টার্জিত বোরো ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতেই সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সেই টাকা অনুপাতে আমরা দ্রুত কাজ চাই। কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া হবে না।

Mohammed Alam

Recent Posts

সীতাকুণ্ডের মাদামবিবিরহাটে তুচ্ছ ঘটনায় যুবককে পিটিয়ে হত্যাকরেছে প্রতিবেশী

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তুচ্ছ ঘটনা লেবু গাছকে কেন্দ্র করে মোঃ রাজু (৩০) নামে…

1 day ago

জগন্নাথপুরে ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ, জরিমানা আদায়

জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পবিত্র মাহে রমজান মাসে গ্যাস সহ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রনে মাঠে রয়েছে…

3 days ago

স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মী মোহাম্মদ মামুন তার বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।…

4 days ago

পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন হাফেজ মুনতাহা,বিজয়ীদের জন্য রয়েছে অর্থ পুরস্কার ও উমরাহর সুযোগ

কাইয়ুম চৌধুরী- দেশের সর্ববৃহৎ টেলিভিশন ভিত্তিক ইসলামিক রিয়েলিটি শো ‘পিএইচপি কুরআনের আলো ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে…

4 days ago

তারাবীহর হাদিয়া বলে টাকা উঠিয়ে অল্প কিছু টাকা ইমামকে দিয়ে বাকি টাকা মসজিদ ফান্ডে রাখা একধরনের অন্যায়, খেয়ানত,প্রতারণা

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড তারাবির নামাজের জন্য মুসল্লিদের কাছ থেকে টাকা তুলে ইমাম বা হাফেজকে পুরোপুরি…

4 days ago

শঙ্খ নদী থেকে অবাধে তুলছে বালু, ঝুঁকিতে খোদারহাট ব্রীজ

জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ  বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শঙ্খ নদী, জীববৈচিত্র্যে অনাবিল এই নদীর…

4 days ago

This website uses cookies.