
রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই আবারো এই কথাটি প্রমাণ করলেন একটি বড় আদর্শ দলনেতা। রাজনীতির দীর্ঘ পথ চলায় যাদের সাথে যুগোপ্রত আন্দোলন করেছিলেন এই দল, তারাই আজকে শরিক দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে পড়ে গেলেন। দীর্ঘদিনের চলার সাথী রাজনীতির ময়দানে একসঙ্গে আন্দোলনের জোট সংগীকে পতিত স্বৈরাচারের দেয়া ট্যাগ ব্যবহার করে নিজের দলকেই নেটিজেনদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন। যা সত্যিই অনভিপ্রেত।
বিগত দিনে পতিত স্বৈরাচার সরকার যে যে ট্যাগ ব্যবহার করে বিরোধী দলকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছিল সেই ট্যাগ এখন আর চলে না, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ নতুনভাবে চিন্তা করতে শিখেছে, ট্যাগের রাজনীতি দেশের মানুষ আর চায় না, এখন ত্যাগের রাজনীতি চায়।
প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে জোর খাটিয়ে মাঠ দখলের চেষ্টা কিংবা ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর অপচেষ্টা এখন নিতান্তই বৃথা। নতুন বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক ফর্মুলা প্রয়োগ করতে হবে। ভোটারদের মন জয় করেই তবে পাস করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, ভোটারদের মন জয় করার জন্য সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনা ও আশা জাগানোর মত ইস্তেহার দিন। ভালোর উপর ভালো চায় দেশের জনগণ। দেশের সিংহ ভাগ তরুণ প্রজন্ম উন্নয়নমুখী নিরাপত্তা মূলক ও অংশগ্রহণমূলক সৌহার্দ্যপূর্ণ ভ্রাতৃত্বশুলভ আচরণ আশা করে প্রতিটা রাজনৈতিক দলের কাছে। নেটি জানরা চুপি চুপি দেখছেন যে কোন দলের পরিকল্পনা কত উচ্চ ও উন্নয়ন্মুখী, কোন কোন রাজনৈতিক দল জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছেন,
কোন কোন রাজনৈতিক দল সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠতে পেরেছেন, জনগণের চাওয়া পাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাদের পছন্দের প্রার্থীকেই এবার সাধারণ জনগণ সমর্থন দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
ফ্যাসিবাদী কায়দায় আক্রমণাত্মক কথা বলে, জনরোষ সৃষ্টি করে, জনগণের চাওয়া পাওয়াকে অবমূল্যায়ন করে, দেশের মানুষকে জিম্মি করে, হুমকি-ধমকি দিয়ে, ভোট কেন্দ্র দখল করে, জাল ভোট দিয়ে, বট বাহিনীর মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে, জোরপূর্বক ক্ষমতার চেয়ার দখল করার সময় এখন শেষ হয়ে গিয়েছে। এই পরিবেশ ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মাটিতে আর হতে দেবে না জনগণ। রাজনীতিবিদদের নোংরা রাজনীতির নোংরা কলাকৌশল দেশের মানুষ এখন বুঝে ফেলেছে, এই কৌশলে রাজনীতি করলে পাশ করার চেয়ে ফেল করার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
দেশের মানুষ এখন আর বোকার স্বর্গে বাস করে না, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর এখন পুরো জাতিই সচেতন হয়ে গেছে। নব্য স্বৈরাচার হয়ে ওঠার স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না রাজনীতিবিদদের। সূক্ষ্ম কৌশলে প্রশাসন কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের চলা কলার মাধ্যমে কোন দল যদি পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসেও যায় তবে বেশিদিন টিকতে পারবে না। কারণ দেশের মানুষ স্বৈরাচার পতনের মূলসূত্র রপ্ত করে ফেলেছে। এখন আর কোন স্বৈরাচার কে দেশের মানুষ ভয় করে না, প্রতিটা নাগরিকের হাতে হাতে রয়েছে স্মার্টফোন, কেউ যদি ফ্যাসিবাদ ফর্মুলা প্রয়োগ করতে চায়, অজান্তেই রেকর্ড হয়ে যাবে তার অপকর্ম, দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ হয়ে পড়বে অপচরিত্র।
তাই সাধু সাবধান, প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিপক্ষ ভাববেন না, প্রতিদ্বন্দ্বীকে আপন করে নিন, সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সহকর্মী ভাবতে কষ্ট হলে সহযোগী হিসেবে ধরে নিন। কোন পক্ষ অন্য পক্ষের চরিত্র হরণের মতো নোংরা রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসুন, একপক্ষ অন্যপক্ষকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন, প্রতিদ্বন্দ্বীর জনসমাবেশে একা একা গিয়ে আরেক প্রতিদ্বন্দি সৌহার্দ্যপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করুন, অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একই মঞ্চে এসে তর্ক-বিতর্ক আলোচনা সমালোচনা করতে পারার মতো পরিবেশ তৈরি করুন, বিদ্বেষপূর্ণ কথাবার্তা, কটাক্ষ মূলক আচরণ, আক্রমণাত্মক বাক্য ব্যবহার, চরিত্র হনন, অপকৌশলে প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করা থেকে বিরত থাকুন।
এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ সবার, সবাই মিলে দেশটাকে সুন্দরভাবে বসবাসযোগ্য নিরাপদ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিন। দুর্নীতিবাজ কে না বলুন, অসৎ দুশ্চরিত্র, লম্পট ,দেশদ্রোহী মাদক সেবীকে প্রতিহত করুন, চাঁদাবাজকে যেখানেই পাবেন গণধোলাই দিন, এই দেশদ্রোহীদের কে কোনভাবেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবেন না। এই অসৎ লোক গুলো কোন দলের অংশ হতে পারে না। এরা পরিবারের শত্রু, সমাজের শত্রু, দেশের শত্রু, সর্বোপরি এদেরকে প্রতিহত করতে হবে।
দেশের মানুষ মুক্তি চায়, শান্তি চায়, সবাইকে সাথে নিয়ে পরিবেশ বান্ধব বসবাসযোগ্য একটি সুন্দর সোহাদ্যপূর্ণ ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, আপনি আমি আমরা সবাই এই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এমন রাষ্ট্র গঠনে অবদান রাখতে সব চেষ্টা থাকি। আসুন সবাই মিলে একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন, আমীন।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply