
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডের সাতটি স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। সলিমপুর, ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড ও বড়দারোগাহাটে দুপুর ১টা থেকে দফায় দফায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
দুপুর একটায় ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে। বড় কুমিরার আলমগীর মেম্বারের নেতৃত্বে সেখানে বিক্ষোভ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলমগীর মেম্বার বলেন, “আসলাম চৌধুরী দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে টানা আট বছর কারাভোগ করেছেন। এ কারণে তিনি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। সীতাকুণ্ডবাসী তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন, আদালতের তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।”
ভাটিয়ারীতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অবিলম্বে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা করে লায়ন মো. আসলাম চৌধুরীকে শপথ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। মো. আলীর সভাপতিত্বে এবং শহীদুল ইসলাম শহীদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ফিরোজুল আলম, নাছির সওদাগর, সোলেমান, মো. ইউনুছ, মো. ওয়াসিম, মো. কফিল উদ্দিন, লাকি আক্তার, মুন্নি আক্তার প্রমুখ।
এদিকে, ছোট দারোগাহাটে গাছ কেটে মহাসড়কে ব্যারিকেট দেওয়ার ফলে উভয় দিকে প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীসাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
উল্লেখ্য, আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা চলছিল। নির্বাচন কমিশন, হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে একাধিক শুনানির পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছালামত উল্লাহ বলেন, “আসলাম চৌধুরী ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন সত্য, কিন্তু দীর্ঘ কারাভোগের কারণে সুদে-আসলে তা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আদালত বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে প্রার্থিতা বাতিল করেছেন, যা সীতাকুণ্ডবাসী মেনে নিতে পারছে না।” দলের সদস্য সচিব মো. মোরছালিনও রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলামের আশ্বাসে বিকেল ৫টার দিকে নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নেন। তবে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের ফলে আটকা পড়া হাজার হাজার যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এ সময় আটকে পড়া কয়েকজন প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারলে তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
বারআউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল হক জানান, আদালতের রায় শোনার পর নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বুঝিয়ে বিকেল ৫টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আসলাম চৌধুরী দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি নেতাকর্মীদের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি পরিহার করতে এবং অবিলম্বে সড়ক থেকে ব্যারিকেট তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply