
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম নগরীতে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আতর ডিপু সামুদপুর এলাকার একটি ঝুটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে এ ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—ঘনবসতিপূর্ণ একটি আবাসিক এলাকায় বছরের পর বছর কীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঝুটের গুদাম ও ফ্যাক্টরি পরিচালিত হচ্ছে?
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামুদপুর এলাকায় একাধিক গার্মেন্টস ঝুটের গুদাম ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকারী ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
ইউসুফের তুলা ফ্যাক্টরি,
কপিলের ঝুটের গুদাম,
আবুল হোসেনের ঝুট ফ্যাক্টরি,
মোহাম্মদ হোসেনের ঝুটের গুদাম।
এসব গুদামে দাহ্য ঝুট, তুলা ও কাপড়ের বর্জ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্তূপ করে রাখা হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আতঙ্কে বসবাস এলাকাবাসীর
সামুদপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, এসব ঝুটের গুদামের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক বাড়ি গুদামগুলোর একেবারে সন্নিকটে হওয়ায় সামান্য আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকেও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“এখানে শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই বসবাস করে। ঝুটের গুদাম মানেই আগুনের ঝুঁকি। আমরা সব সময় ভয়ে থাকি—কখন যে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলা যায় না।”
নিয়মনীতি মানা হচ্ছে কি?
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নগরের আবাসিক এলাকায় শিল্পজাত দাহ্য গুদাম ও ফ্যাক্টরি স্থাপনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বিধিনিষেধ থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে—
এসব গুদামের জন্য সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কি না,
ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ মানা হচ্ছে কি না,
বারবার অভিযোগের পরও কেন ঝুটের গুদামগুলো স্থানান্তর করা হয়নি।
এলাকাবাসীর এক দফা দাবি
সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একযোগে দাবি তুলেছেন—
অবিলম্বে আবাসিক এলাকা থেকে সব ঝুটের গুদাম ও ফ্যাক্টরি সরিয়ে নিতে হবে,
ঝুঁকিপূর্ণ গার্মেন্টস ঝুট ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে হবে,
দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে
এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে প্রশাসনের তদারকি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে কি না, নাকি আগের মতোই বিষয়টি উপেক্ষিত থাকবে—সেই উৎকণ্ঠার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে সামুদপুর এলাকার মানুষ।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড কেবল দুর্ঘটনা নয়—এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও অনিয়মের ভয়াবহ পরিণতি।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply