
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজের গ্যাস নিষ্কাশনকালে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বিস্ফোরিত হয়ে ৯ জন শ্রমিক ও উদ্ধারকারী নিহত হওয়ার ঘটনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, সেনাবাহিনীর জিওসি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিস্ফোরক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল বিস্ফোরিত জাহাজে প্রবেশ করে গ্যাস নিষ্ক্রিয়করণের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
১৫ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
পরিদর্শনকালে শিল্প সচিব বলেন, “জাহাজে দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান এখানে উপস্থিত আছেন। জাহাজের ভেତর হাইড্রোজেন সালফাইডের ঝুঁকিমুক্ত করার পর তাঁরা সেখানে প্রবেশ করে ভেতরের বিষয়গুলো দেখবেন। সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কমিটির কর্মকর্তারা কথা বলবেন। তদন্ত কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই দুর্ঘটনার পেছনে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন, “ঘটনার সাথে সাথেই আমরা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিয়েছি। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনার পর সেনাবাহিনীর এক্সপ্লোসিভ টিম এখানে এসেছে। যারা বিস্ফোরক নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের সাথে পরামর্শ করে ধৌতকরণ বা ওয়াশ আউটের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পরিদর্শন শেষে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তার মধ্যে রয়েছে—জাহাজটির ভেতরের অংশে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড এমনভাবে পরিষ্কার করা হবে, যাতে তা পানিতে বা বাতাসে মিশে জনসাধারনের কোনো ক্ষতি না করে। এর পরই জাহাজ কাটিং করা যাবে।
উল্লেখ্য, শিপ ইয়ার্ডে নিহতের ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ১১ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ সময় বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “জাহাজটিতে হাইড্রোজেন সালফাইড অতিরিক্ত মাত্রায় ছিল। এর বিষাক্ততায় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। আমাদের সবাইকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগে জাহাজটিতে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড ড্রেন আউট করে নিরাপদ করা হবে।”
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মোহসীন সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “দুর্ঘটনা এড়াতে শিপইয়ার্ডকে উন্নত প্রযুক্তির গ্রিন ইয়ার্ড করা হচ্ছে। স্ক্যাপ জাহাজটিতে বিষাক্ত গ্যাস মুক্ত করার পরও গ্যাস রয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সাধারণত ইয়ার্ডে কাজ চলে না, তবে গ্যাস নিষ্ক্রিয়করণ সম্পন্ন করতেই সেদিন তাদের কাজ চলছিল। কাটিং স্থানটিতে গ্যাসের মাত্রা বেশি থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর আমাদের আরও সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত দল গঠন করেছি, যারা এই দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করবে। আমরা নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লাখ টাকা খুব শীঘ্রি হস্তান্তর করব।”
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply