কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টে চলমান মামলায় সরকারি আইনজীবীদের অসহযোগিতা এবং দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে আটটি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর চেরাগি পাহাড় চত্বরে ‘চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন’-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলীর সঞ্চালনায় এতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আন্দোলনকারী সংগঠনসমূহ:
অবস্থান ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন।
৩ দফা দাবি ও আল্টিমেটাম:
বক্তারা কর্ণফুলী রক্ষায় অচিরেই তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। দাবিগুলো হলো:
১. হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতা করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি ও এআইজিকে প্রত্যাহার করা।
২. হাইকোর্টের নির্দেশিত ‘নদীর জীবন্ত সত্ত্বা’র আদেশ অনুযায়ী কর্ণফুলীকে দখল ও দূষণমুক্ত করা।
৩. সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী তীরের সাড়ে তিন শতাধিক দেশীয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ করা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই দাবিগুলো অচিরেই বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্ণফুলীতে সাম্পান ও নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:
সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, “কর্ণফুলীর অবৈধ দখলদারদের দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করতে দেখা যায়। আদালতে সরকারি অর্থে নিয়োগকৃত আইনজীবীরা যদি জনগণের স্বার্থ রক্ষা না করে দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নেন, তবে জনগণের কাছে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, “দেশের অর্থনীতির প্রাণ কর্ণফুলী নদী রক্ষায় প্রশাসন চরম উদাসীন। নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত না করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”
সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, “নতুন সরকারের নদী ও খাল রক্ষার ঘোষণায় আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু এখন সরকারি আইনজীবীদের এমন ভূমিকা কর্ণফুলীকে ধ্বংস করার পায়তারা ছাড়া আর কিছু নয়, যা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিহত করবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি জানে আলম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক কামাল পারভেজ, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল করিম বাপ্পি, সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমাজসেবক।
কাইয়ুম চৌধুরী: আবুল মনসুর (৫৫) ছিলেন ফেরদৌস শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ফোরম্যান এবং তার ছোট ভাই নাসির…
খুলনা প্রতিনিধি: যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহত্তর পরিসরে চালু করার ঘোষণা দিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ…
দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ১নং শিবরামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপাড়া মন্দির থেকে বাবুরহাটগামী সড়কের পাকাকরণ কাজে…
কাইয়ুম চৌধুরী,সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ট্যাংক থেকে…
চট্টগ্রাম (ইপিজেড) প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী…
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সীতাকুণ্ড পৌরসভা যুবদল…
This website uses cookies.