চট্টগ্রাম প্রতিনিধি-
সোমবার বিকেল পাঁচটা। স্বর্ণের দোকানে কাজ করছিলেন দোকান মালিক সমর ভৌমিক ও কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মা। ঠিক ওই সময়ে সমরের মুঠোফোন বেজে ওঠে। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কথা বলেন তার বড় ভাই শ্রীকান্ত ভৌমিক অমর। তাকে উপজেলা ভূমি অফিসে আটকে রাখা হয়েছে জানানোর পাশাপাশি তার ভাই সমরকে ভূমি অফিসে আসতে বলেন। সমর দোকান বন্ধ করে কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মাকে নিয়ে উপজেলায় ছুটে যান। তারা উপজেলার ভেতরে থাকা জামে মসজিদ এলাকায় পৌঁছানোর পর কথিত সাংবাদিক নামধারী একদল দুর্বৃত্ত স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মার উপর চড়াও হন। তারা তার ওপর মব সৃষ্টি করেন এবং মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশকে ডেকে তার হাতে হ্যান্ডকাপ পড়াতে বলেন। পুলিশ এতে অসম্মতি জানালে তাকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দেন এবং হ্যান্ডকাপ পড়াতে বাধ্য করে। এরপর কথিত সাংবাদিকরা কামাল কান্তি শর্মাকে মারতে মারতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে নিয়ে যান। এই সময় সেখানে নামজারিতে সনদ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আটকে রাখা শ্রীকান্ত ভৌমিক অমরের সাথে তাকেও একই ঘটনা গ্রেফতার করাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর চাপ সৃষ্টি করেন। নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতর থেকে হ্যান্ডকাপ পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে দেন। এ সময় কথিত সাংবাদিকদের চাপে বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দু’জনকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ঘটনার ঘন্টাখানেক পর নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ফ্রুটেজ দেখে মবের বিষয়টি নিশ্চিতের পর ইউএনও সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শ্যামল কান্তি শর্মাকে ছেড়ে দিতে নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ধরনের ঘটনার জন্য তার পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মবের শিকার হওয়া স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মা জানান,মালিকের কথায় দোকান বন্ধ করেন এবং মালিকের সাথে উপজেলায় যান তিনি। উপজেলা জামে মসজিদের সামনে দাঁড়ানোর পর জাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী,সোলাইমান মেহেদী,ফারহান সিদ্দিক,মহিউদ্দিন সহ বেশ কয়েকজন কথিত সাংবাদিক তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে জাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী ও সোলায়মান মেহেদী “মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই শালা সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের এক সাংবাদিকের ভাই,তাকে ধর,মিথ্যে মামলায ফাঁসিয়ে দে”বলে দৌড়ে এসে মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে থাকা পুলিশকে ডেকে আমার হাতে হ্যান্ডকাপ পড়াতে বলেন। পুলিশ তাকে অসম্মতি জানালে তাদেরও “স্বৈরাচারের দোসর” আখ্যা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বলে ভয়ভীতি দেখেন । এতে পুলিশ বাধ্য হয়ে আমার হাতে হ্যান্ডকাপ পরান। পুলিশ হাতে হ্যান্ডকাপ পরানোর পরও তারা নানা ধরনের অশালীন ভাষায় স্লোগান দিতে দিতে আমাকে টানতে টানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে তারা আমাকে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনেই হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো ছবি তুলেন। পরে তাদের চাপে বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউএনও অফিসে আটক অমরের ছোট ভাই উপহার জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী সমর ভৌমিক জানান,তার বাবা ও চাচার নামে একটি নামজারি করাতে ভূমি অফিসে ফাইল জমা দিয়েছিলেন জিয়া নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে। অনলাইন আবেদনের জন্য ফাইলে তার বড় ভাইয়ের মুঠোফোন নাম্বারটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু নামজারি ফাইলে ওয়ারিশ সনদ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সুপ্রীতি জুয়েলার্স এর মালিক তার বড় ভাই অমরকে ভূমি অফিসে আটকে রাখেন এসিল্যান্ড। পরে তাকে ইউএনও’র কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি তার বড় ভাইয়ের মুঠোফোন থেকে জানতে পেরে তার দোকান কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মাকে নিয়ে তিনি উপজেলায় ছুটে যান। উপজেলা জামে মসজিদের সামনে যাওয়ার পর কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু দুর্বৃত্ত তার কর্মচারীর উপর চড়াও হয়। তারা কোন ধরনের কারণ ছাড়াই তাকে মারতে মারতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে তাকেও একইভাবে মিথ্যা ঘটনায় জড়িয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। দুর্বৃত্তরা মব করার সময় তার ছোট ভাই সাংবাদিকতা কেন করে সেই অপরাধে তাকে শাস্তি পেতে হবে বলেও হুংকার দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান,অভিযোগের বিষয়টির সাথে মবের শিকার হওয়া স্বর্ণের দোকান কর্মচারীর কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। দোকান মালিক তার সামনে থেকে চাবি দিয়ে যেতে ওই কর্মচারীকে ফোন করেছিল। তিনি মূলত দোকান বন্ধ করে চাবি দিতেই উপজেলা এসেছিলেন। তার উপর ঘটে যাওয়া ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.ফখরুল ইসলাম জানান,প্রথমে তিনি বিষয়টি বুঝতে না পেরে স্বর্ণের দোকানের ওই কর্মচারীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। পরে সিসিটিভি ফ্রুটেজ মবের বিষয়টি নিশ্চিতের পর তাকে ছেড়ে দিতে ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করেন। সাংবাদিক পরিচয়দান কারী তিন চার জন ব্যক্তি বিষয়টি ভুল ভাবে উপস্থাপন করে স্বর্ণের দোকানের ঐ কর্মচারীকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ তৃণমূল ও জাতীয় পর্যায়ে সৎ, যোগ্য ও আদর্শিক নেতৃত্বের জন্য দেশবাসী থাকিয়ে…
দিদার টুটুলঃ সীতাকুণ্ডের কৃতি সন্তান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমেদ মুন্না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী…
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ পুরাতন জাহাজ ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী হংকং থেকে আমদামী করা পুরাতন জাহাজ…
বিশেষ প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়াস্থ নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের উদ্যোগে…
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ বুধবার ( ০৩ জুন) সন্ধ্যা ৭ টায় চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল…
খুলনা ব্যুরো- খুলনার দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ধোপাদী এলাকায় নুর ইসলাম লস্করের নেতৃত্বে একটি অসহায় পরিবারের…
This website uses cookies.