
মোঃ শাহরিয়ার সুমনঃ
চট্টগ্রামের সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানার হাজিরপুল এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার এক বন্ধ বাসার বাথরুম থেকে তিন দিন ধরে নিখোঁজ জুনায়েদের লাশ উদ্ধার করে গত ৩ এপ্রিল বায়েজিদ থানা পুলিশ। বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অতঃপর উক্ত ঘটনার তদন্ত করে নিহত জুনায়েদের মার কাছে টাকা চেয়ে হত্যার হুমকির একটি কল রেকর্ড এর সুত্র ধরে শুক্রবার ৫ এপ্রিল বিকেল তিনটার দিকে নগরীর কোতোয়ালি থানার ডিসি হিল এলাকা থেকে নিহতের বন্ধু মিশকাতুর রহমান মিশকাত (২০) নামের এক যুবককে আটক করে মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করেন বায়েজিদ থানা পুলিশ। বায়েজিদ জোনের
সহকারী পুলিশ কমিশনার বেলায়ত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে অত্র এলাকার অপরাধ যেমন কমে এসেছে তেমনি অপরাধী যত বড় অপরাধী হোক দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনেন ,এদিকে সরকারি পুলিশ কমিশনার পঙ্কজ দত্ত বলেন সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে অপরাধীকে গ্রেফতার করা সক্ষম হয়েছে ,
প্রসঙ্গত বায়েজিদ বোস্তামি থানায় ওসি সঞ্জয় কুমার সিনহা যোগদানের পর থেকেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উনি বিশেষ অবদান রেখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহার দেয়া তথ্য মতে জুনায়েদের বাবা জমি কেনার জন্য কিছু টাকা পাঠিয়েছিল। সেটা বন্ধু মেশকাতের সঙ্গে সে শেয়ার করেছিল। এর মধ্যে একটি ঘটনা ঘটে। জুনায়েদ স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ পড়িয়ে ছয় হাজার টাকা আয় করে। তার মা সেই টাকা খুঁজলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। অভিমান করে ১ এপ্রিল জুনায়েদ বাসা থেকে বেরিয়ে মেশকাতের কাছে যায়।
তিনি আরও বলেন, মেশকাতের তথ্যানুযায়ী জুনায়েদ ও সে মিলে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মায়ের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে জুনায়েদ মায়ের ওপর অভিমান করলে বিষয়টি লুফে নেয় মেশকাত। এক পর্যায়ে জুনায়েদকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে মেশকাত। অজ্ঞান করার পর সে ভাবে, যেহেতু ঘটনা একটা ঘটিয়ে ফেলেছে এখন জুনায়েদকে বাঁচিয়ে রাখলেই সে বরং ফেঁসে যাবে। তখন সে জুনায়েদকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
১ এপ্রিল জুনায়েদ বাসাটিতে যাওয়ার পর মেশকাত তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো শরবত খেতে দিয়েছিল। সেটি খাবার পর জিসান দুর্বল হয়ে গেলে তাকে বাথরুমের ভেতর ঢুকিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে রাত ৯টার দিকে বের হয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তী সময়ে আবার এসে জিসানের গলা চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তার মোবাইল নিয়ে ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়। মেশকাত পরে জিসানের নম্বর থেকে তার মাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। কল রেকর্ডটি তার এক বন্ধুকে শোনালে তিনি সেটি মেশকাতের বলে শনাক্ত করে। মেশকাত জুনায়েদের মোবাইলটি আনোয়ারায় নিয়ে বিক্রি করে দেয়। সেই মোবাইলের সূত্রে মেশকাতের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরো বলেন মিসকাতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, মৃত জুনায়েদ মীরসরাই উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের প্রবাসী আবু জাফরের ছেলে। তিনি পটিয়া মাদরাসার হিফজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।এছাড়া গ্ৰেফতার হওয়া মেশকাতুর রহমান মেশকাত আনোয়ারার পীরখাইন পূর্বপাড়া ৯নং ওয়ার্ডের নাগু মাষ্টারের বাড়ির পিতা মোঃ মিজানুর রহমানের ছেলে।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply