মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সীতাকুণ্ড উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুরের ইন্তেকাল সীতাকুণ্ড পৌর প্রশাসনের ওয়েবসাইট ক্লোন, প্রশাসক-ইউএনও ও ওসির সিল-স্বাক্ষর জাল করে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা সীতাকুণ্ডে মধ্যরাতে মহাসড়কে আগুন দিয়ে নাশকতার চেষ্টা, ধাওয়া দিল বিএনপি যুবদল নেতা রায়হানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, ভবন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা: মাদক নয়, খেলাধুলায় কাটুক আমাদের অবসর — ইউএনও ফখরুল ডেঙ্গু প্রতিরোধে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে ‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’-এর পরিচ্ছন্নতা অভিযান সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ঘরে ঘরে আতঙ্ক, দুই দিনের ব্যবধানে মৃত্যু ২, হাসপাতালে ভর্তি ১৩ সীতাকুণ্ড জাফর নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে ইউএনও ফখরুল ইসলাম সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম ফের জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যানের বাঁশবাড়িয়া ফেরীঘাট পরিদর্শন
বিজ্ঞপ্তিঃ

সারাদেশে  প্রত্যেক  বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ই-মেইল-Mmdidar7@gmail.com মোবাইলঃWhatsApp&Imo:01878518066 #বিশ্বব্যাপী আপনার প্রতিষ্টান ও পন্যের প্রচার প্রসারে বিজ্ঞাপন দিন

সীতাকুণ্ড পৌর প্রশাসনের ওয়েবসাইট ক্লোন, প্রশাসক-ইউএনও ও ওসির সিল-স্বাক্ষর জাল করে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা

  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কাইয়ুম চৌধুরী,সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

​সরকারি পোর্টালের আদলে ক্লোন ওয়েবসাইট তৈরি, কিউআর কোড সংবলিত ডিজিটাল ওয়ারিশ সনদ প্রস্তুত এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সিল-স্বাক্ষর নকল করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে জমি নামজারি ও আত্মসাতের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। ওই সনদ ব্যবহার করে ৫৭ শতকের বেশি পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি খতিয়ান সৃষ্টির ঘটনাও ধরা পড়েছে। এ ব্যাপারে পৌরসভা থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

​পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিবপুর এলাকার মৃত মো. খায়রুল্লাহর কন্যা হাছিনা বেগমের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার ওয়ারিশ সনদে তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের ঘটনায় পৌর কর্তৃপক্ষের নথিতে একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে।

​পৌরসভার নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাছিনা বেগম তাঁর জ্যেষ্ঠ বোন হাছিনা বানুর নাম উল্লেখ না করে নিজেকে একমাত্র ওয়ারিশ দাবি করে একটি ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসভায় ৮৫/২০০২ নম্বর মামলা হয়। পরবর্তী তদন্তের পর ২০০২ সালের ২৩ অক্টোবর ওই সনদ বাতিল করা হয়।

​পৌরসভার আরেকটি প্রত্যয়নপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৬ জুলাই হাছিনা বেগম পুনরায় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে তথ্য গোপন করে একটি ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন। সনদটির স্মারক নম্বর ছিল—সীঃপৌঃ/প্রশা:/এক-১৯৭/৮-২০১০/৪৯৮। পৌরসভার নথিতে বলা হয়েছে, তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুলফিকার আলী মাসুদের তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ার পর সনদটি জব্দ ও বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র (অব.) নায়েক সফিউল আলম এ বিষয়ে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন।

​২০২৫ সালের ২৭ জুলাই হাছিনা বেগম পুনরায় ওয়ারিশ সনদ গ্রহণের চেষ্টা করেন। হাছিনা বানুর আপত্তির পর শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং তৎকালীন পৌর প্রশাসক আবেদনটি বাতিল করেন। এ ঘটনায় আদালতে সি.আর. মামলা নং ৬৫বি/২০২৫ দায়ের করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

​আগের ঘটনাগুলোর পর এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সীতাকুণ্ড পৌরসভার অনুমোদিত পোর্টাল “sitakunda.prottoyon.net”-এর আদলে একটি নকল ক্লোন ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়। ওই ওয়েবসাইট থেকে ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দেখিয়ে ১০৪৪৪৬ নম্বরের একটি ডিজিটাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়।

​সনদটিতে সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সিল-স্বাক্ষর, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সিল-স্বাক্ষর এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলামের সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সনদে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইউএনওর স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে, অথচ ওই দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথির মাধ্যমে যাচাইযোগ্য।

​অভিযোগের আরও গুরুতর দিক হলো, ওই ডিজিটাল সনদটি প্রকৃত সনদ হিসেবে ব্যবহার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নামজারির আবেদন করা হয়। শিবপুর মৌজার আর.এস./বি.এস. দাগ নং ৮০৮, ৮১১, ৮১৩, ৮২৩, ৮২৫, ১৩৯৮, ১৪৫৪, ১৪২৬, ১৪৩৩ ও ১৪৩৬-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ০.৫৭৪৫ একর বা ৫৭.৪৫ শতক পৈতৃক জমি নিজের নামে নামজারি করার অভিযোগ রয়েছে। নথি অনুযায়ী, এ বিষয়ে নামজারি খতিয়ান নং ২০২৬-১০০০৩৩ এবং মিউটেশন কেস নং ২২৫(IX-I)/২০২৬-২৭-এর অনুমোদনের তারিখ ১০ আগস্ট ২০২৬ বলে অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট আলী আজম জানান।

​অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এর মাধ্যমে মৃত মো. খায়রুল্লাহর অপর ওয়ারিশ হাছিনা বানুকে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। হাছিনা বানুর পক্ষে তাঁর পুত্র অ্যাডভোকেট মো. আলী আজম ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ডকেট নং ৫২৫ মূলে পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

​অভিযোগের পর পৌরসভার পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১০৪৪৪৬ নম্বরের ওয়ারিশ সনদটি বাতিল করা হয়েছে। পৌরসভার স্মারক নং সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৮-এর মাধ্যমে সনদটিকে ভুয়া, অবৈধ ও আইনত অস্তিত্বহীন ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া স্মারক নং সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৯-এর মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে ওই সনদের ভিত্তিতে কোনো নামজারি বা দলিল রেজিস্ট্রি না করার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্মারক নং সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৬-এর মাধ্যমে হাছিনা বেগমকে মূল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হননি বলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

​অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের ওয়ারিশ সনদ সংক্রান্ত বিরোধ এবং সর্বশেষ ডিজিটাল সনদ জালিয়াতির ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্লোন ওয়েবসাইটটি কে তৈরি করেছে, কোন ডিভাইস বা আইপি থেকে সেটি পরিচালিত হয়েছে, সনদে ব্যবহৃত সিল-স্বাক্ষর কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নামজারি প্রক্রিয়ায় কীভাবে ওই নথি গ্রহণ করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, “পৌরসভার প্যাড ও সিল ব্যবহার করা হলেও সেখানে আমাদের স্বাক্ষর নেই; এগুলো জাল করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে নামজারিটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সনদ জালকারীর বিরুদ্ধে পৌরসভা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

​পৌরসভার নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, “সনদটি জাল—তা আমরা তদন্তে পাওয়ার পর সনদটি বাতিল ঘোষণা করেছি। সনদ জালকারীর বিরুদ্ধে মামলার এজহার প্রস্তুত করে সার্টিফিকেট বিতরণের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন নির্ধারিত সময়ে থানায় যাননি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সময় চেয়েছেন।”

​সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম জানান, “পৌর ওয়ারিশ সনদে আমার স্বাক্ষরের কোনো এখতিয়ার বা দায়িত্ব নেই। তবে এই সনদটিতে আমার স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। আমি কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি; এছাড়া কেউ এজাহার নিয়ে আসলে তা গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​এদিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার সার্টিফিকেট প্রদানকারী ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী মো. মহিউদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে এই ওয়েবসাইট তৈরি হলো, এর সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মামলার এজহার প্রস্তুত করে দেওয়ার পরও তিনি কেন থানায় যাননি? জবাবে তিনি বলেন, “আমি এসবের কিছুই জানি না এবং এ বিষয়ে অবগত নই। তাই প্রথমে মামলা করতে চাইনি। আমি বিস্তারিত বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

​এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের কড়া নির্দেশনা রয়েছে—দ্রুত মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024

Theme Download From ThemesBazar.Com
Translate »