
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ভালো ফলাফল অর্জন, কাজে স্বচ্ছতা এবং সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কার্যক্রমের ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানা বহুমুখী উদ্যোগ। ফলে ক্রমেই বেড়ে চলেছে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টিতে ১৯৯৪ সালের ২৫ জুলাই আমজাদ হোসেন প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই সময় বিদ্যালয়টি নামমাত্র একটি ছোট ঘর এবং হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তাঁর দীর্ঘ দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের এই ক্যাম্পাস পর্যায়ক্রমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১০ বার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূষিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন নিজেও উপজেলায় ৮ বার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় তাঁরই প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে একটি দ্বিতল ভবন ও একটি চারতলা আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে এবং পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত হয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ৫২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ২০টি শ্রেণিকক্ষের প্রতিটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়মিত পাঠদান পর্যবেক্ষণ, সঠিক তদারকি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা হচ্ছে।
শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেও বিভিন্ন আধুনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, নতুন ভবন, শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি সুন্দর ও নিরাপদ হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, তাঁর নিরলস শ্রম, দক্ষতা ও সততার কারণে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সম্মিলিত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁকে দীর্ঘ ২০ বছর দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং পরবর্তী বিগত ৬ বছর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই উন্নয়ন শুধু একজনের নয়; এর পেছনে সহকর্মী, ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এ পর্যন্ত আসতে আমাকে নানা প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবিলা করতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। তবে সফলভাবে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন দেখে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাকে ও বিদ্যালয়কে হেয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সততার জয় সর্বদা অবধারিত, তাই প্রতিবারই তারা ব্যর্থ ও সমাজে প্রতিপন্ন হয়েছে। আমার ইচ্ছা, কর্মজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই সেবা ও উন্নয়নমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।”
স্থানীয়দের মতে, তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়ের এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আরও মনোযোগী করে তুলবে এবং বিদ্যালয়টিকে আগামী দিনে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply