শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ভূরুঙ্গামারীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিতঃ মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগাদা গাইবান্ধায় অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে সীতাকুণ্ডে নামাজরত অবস্থায় মা-মেয়েকে জিম্মি করে ডাকাতি: ১৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে নীরব চাঁদাবাজি: জিম্মি মালিকরা, আটক ১ উত্তাল সঙ্খনদীতে লাকড়ি ধরতে গিয়ে নৌকা থেকে পড়ে যুবক নিখোঁজ সীতাকুণ্ডে পাহাড় ধসে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু প্রবল বর্ষণে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থান প্লাবিত, বাড়িঘর-অফিস-মসজিদে পানির হানা দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলের মৃত্যু গৃহবধূ সুমির সন্ধান চায় পরিবার
বিজ্ঞপ্তিঃ

সারাদেশে  প্রত্যেক  বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ই-মেইল-Mmdidar7@gmail.com মোবাইলঃWhatsApp&Imo:01878518066 #বিশ্বব্যাপী আপনার প্রতিষ্টান ও পন্যের প্রচার প্রসারে বিজ্ঞাপন দিন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা সীতাকুণ্ডে আধুনিক ট্রমা সেন্টার নির্মাণের দাবি

  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা সড়ক ও শিল্প দুর্ঘটনা মোকাবিলায় একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেন্টার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জরুরি চিকিৎসাসেবার অভাবে সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মূল্যবান প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে।

​সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সীতাকুণ্ডের ওপর দিয়ে গেছে। এখানে অসংখ্য যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু সীতাকুণ্ডে আধুনিক ট্রমা সেন্টার না থাকায় আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিতে হয়। এই দীর্ঘ পথে সময় নষ্ট হওয়ায় অনেকের মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়।

​তিনি আরও বলেন, সীতাকুণ্ড শুধু একটি ব্যস্ত যোগাযোগ করিডোরই নয়, এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে জাহাজভাঙা শিল্প, স্টিল মিল, কেমিক্যাল কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ফলে এখানে একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপন সময়ের দাবি।

পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা:

দুই হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে সীতাকুণ্ডে ৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২ জন নিহত ও অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১ হাজার ১৭৩ জন রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সেবা না থাকায় অধিকাংশ রোগীকে চমেক হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে।

​চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পরবর্তী প্রথম এক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে মৃত্যুহার অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।

প্রশাসনের বক্তব্য:

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ট্রমা সেন্টার অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় রোগীদের সেবা দিতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “সীতাকুণ্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে যে দাবি উত্থাপন করেছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার যদি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে উপজেলা প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে কাজ করবে।”

জনপ্রত্যাশা:

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু ট্রমা সেন্টারই নয়, সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা, আধুনিক আইসিইউ, বার্ন ইউনিট স্থাপন এবং শূন্য পদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা জরুরি। সীতাকুণ্ডবাসীর প্রত্যাশা, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এই দাবির প্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যা মহাসড়ক ও শিল্পাঞ্চলে আহতদের প্রাণ রক্ষায় একটি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024

Theme Download From ThemesBazar.Com
Translate »