
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
প্রান্তিক যুবসমাজকে নাগরিক নেতৃত্বে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সীতাকুণ্ডে “জাগরণ” প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (১১ জুন) ইপসা মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের মরহুম মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মফিজুর রহমান মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এটি একটি সময়োপযোগী প্রকল্প, যা যুবদের নাগরিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করবে। তরুণরাই পারে সরকারের বিভিন্ন সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে। তরুণ জাগলেই দেশ জাগবে।”
‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’-এর আওতায় সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের উন্নয়ন সহায়তায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইপসা (ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন)। সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ইউথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও অগ্রগতি সংস্থা।
ইপসার পরিচালক (কেএমফোরডি) ও জাগরণ প্রকল্পের ম্যানেজারিয়াল ফোকাল মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রদীপ আচার্য্য। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার গবেষণা ও এমঅ্যান্ডই বিভাগের ম্যানেজার ড. মোরশেদ হোসেন মোল্লা।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল হান্নান আলম এবং বিওয়াইএলসি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আলী আশরাফ।
বক্তারা জানান, “জাগরণ” প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিক সচেতনতা, নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে প্রান্তিক যুবদের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অধিকারভিত্তিক স্থানীয় উন্নয়নে সক্ষম করে তোলা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড, সীতাকুণ্ড পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়ন এবং মীরসরাইয়ের দুটি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলবে। প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৪,৩৮৫ জন সরাসরি এবং ১০,১৫০ জন পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন, যার মধ্যে ৫০ শতাংশই নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যুব।
প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রদীপ আচার্য্য তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশই তরুণ হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় শাসন ও নীতিনির্ধারণে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনো অপ্রতুল। সভায় অংশগ্রহণকারীরা কিশোরদের মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে এই বয়সী তরুণদেরও প্রকল্পের আওতায় আনার সুপারিশ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জাগরণ প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের যুব নীতি-২০১৭-এর কার্যকর বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মীরসরাই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহ আলম, সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফন নেছা বেগম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচিব, সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই উপজেলার ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি সৌমিত্র চক্রবর্তী, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, সাংবাদিক সঞ্জয় চৌধুরী এবং বিভিন্ন শিক্ষক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply