শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সীতাকুণ্ডের সলিমপুর জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী ও কর্মী সমাবেশে জেলা সেক্রেটারী মু: আব্দুল জব্বার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি হলেন সীতাকুণ্ডের ছেলে মুন্না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় আমদামীকৃত স্ক্যাপ জাহাজ ফেরৎ পাঠানোর উদ্যোগ প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আয়োজনে নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্মরণ সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে পথসভায় জনসাধারণের সাথে মতবিনিময় করলেন পুলিশ সুপার দাকোপে অসহায় পরিবারের ওপর হামলা, পিতা-পুত্র-কন্যা সহ আহত ৪ একটি কু-চক্রীমহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে, জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই; আসলাম চৌধুরী। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৬৭,৬৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার সমিতির নামে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে শংকর পরিবার। চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে চতুর্মুখী সংঘর্ষে পথচারী নারী নিহত, আহত অন্তত ৩০
বিজ্ঞপ্তিঃ

সারাদেশে  প্রত্যেক  বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ই-মেইল-Mmdidar7@gmail.com মোবাইলঃWhatsApp&Imo:01878518066 #বিশ্বব্যাপী আপনার প্রতিষ্টান ও পন্যের প্রচার প্রসারে বিজ্ঞাপন দিন

ভূরুঙ্গামারীতে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও শিক্ষক পেটানোর অভিযোগ: তদন্তে বিভাগীয় উপপরিচালক

  • আপডেট সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬


ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম):

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মানিককাজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ কামরুন্‌নাহার বেগমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি সম্পদ নষ্ট এবং সহকারী শিক্ষকদের ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়ম ও শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বিদ্যালয়টিতে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত (২৩ মে ) ২০২৬ শনিবার সকালে রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত শুরু করেন।


।। অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের পাহাড়।।
রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক বরাবর জমাকৃত অভিযোগপত্র ও সচেতন এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষিকা কামরুন্নাহার।


🔸পুকুর লিজের টাকা আত্মসাৎঃ বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন পুকুরটি প্রতি বছর ১৫ হাজার টাকায় লিজ দিয়ে সেই অর্থ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
🔸সরকারি গাছ গায়েবঃ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় মাঠের ২০টি গাছ কাটা হয়েছে। গাছগুলো চুরি হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষিকা নিজে স্বীকার করলেও এর পেছনে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
🔸উপকরণ ক্রয়ে ফাঁকিঃ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর উপকরণ ক্রয়ের জন্য নিয়মিত সরকারি বরাদ্দ আসলেও ২০১৮ সালের পর থেকে বিদ্যালয়ে নতুন কোনো উপকরণ কেনা হয়নি।
🔸সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার: বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ ও একটি রাউটার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাসায় নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন প্রধান শিক্ষিকা।


।। সহকারী শিক্ষকদের ওপর হামলা ও হুমকি।।
অভিযোগে প্রকাশ, প্রধান শিক্ষিকার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় এবং তদন্তে সাক্ষী দেওয়ায় তিনি সহকারী শিক্ষকদের ওপর চড়াও হন। পূর্বে এক সহকারী শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বর্তমান সহকারী শিক্ষক মোঃ আবু বকর ছিদ্দিককে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাঝেমধ্যেই তিনি বহিরাগত আত্মীয়-স্বজন এনে শিক্ষকদের হুমকি দেন বলে শিক্ষকরা জানান। এমনকি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তদন্তে সত্য সাক্ষী দেওয়ায় তাকে শাসানো ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে এসে পাল্টা হুমকি দিলে বিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামরুন্নাহার তার পূর্বের কর্মস্থলেও একই রকম উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতেন।


।।প্রশাসনিক উদাসীনতা ও পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন।। বিদ্যালয়ের এই কোন্দল নিরসনে সাবেক স্কুল ম্যানেজিং কমিটি বারবার চেষ্টা করেও প্রধান শিক্ষিকার হাতে অপমানিত হয়ে ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী শিক্ষা অফিসার এই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বলে উভয় পক্ষই দাবি করছে।


।। পাল্টা অভিযোগ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল।।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষিকা কামরুন্‌নাহার বেগম। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে স্কুল থেকে সরানোর জন্য একটি মহল এসব করছে। এর আগেও দুই বার তদন্ত হয়েছে এবং উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সেগুলো মিথ্যা প্রমাণ করে নিষ্পত্তি করেছেন।”


এদিকে স্থানীয়দের একাংশের মতে, বিদ্যালয়ের এই কোন্দলের পেছনে সহকারী শিক্ষক মোঃ মজিবর রহমানেরও ভূমিকা রয়েছে। ১৯৮৭ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত এই শিক্ষক একসময় বিদ্যালয়ের পুকুর এককভাবে ভোগ করতেন। সমালোচনা শুরু হলে তিনি পুকুর ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এছাড়া প্রভাব খাটিয়ে স্কুল চলাকালীন বিদ্যালয়ের মাঠ নিজের ধান ও খড় শুকানোর কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


।। আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ।।
শিক্ষকদের এই প্রকাশ্য কোন্দল ও মারামারির ঘটনায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষকদের মারামারি আর কোন্দলের কারণে বাচ্চারা সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকে। কখন কী ঘটে এই ভয়ে অনেকেই স্কুলে আসতে চায় না। শিক্ষকরা সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না, যার ফলে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে”।


।। তদন্ত কমিটির বক্তব্য।।
শনিবার সরেজমিন তদন্তে আসা রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদন্ত দলের প্রধান (উপপরিচালক) সাংবাদিকদের জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং এই দীর্ঘমেয়াদী কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024

Theme Download From ThemesBazar.Com
Translate »