শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সীতাকুণ্ডের সলিমপুর জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী ও কর্মী সমাবেশে জেলা সেক্রেটারী মু: আব্দুল জব্বার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি হলেন সীতাকুণ্ডের ছেলে মুন্না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় আমদামীকৃত স্ক্যাপ জাহাজ ফেরৎ পাঠানোর উদ্যোগ প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আয়োজনে নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্মরণ সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে পথসভায় জনসাধারণের সাথে মতবিনিময় করলেন পুলিশ সুপার দাকোপে অসহায় পরিবারের ওপর হামলা, পিতা-পুত্র-কন্যা সহ আহত ৪ একটি কু-চক্রীমহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে, জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই; আসলাম চৌধুরী। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৬৭,৬৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার সমিতির নামে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে শংকর পরিবার। চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে চতুর্মুখী সংঘর্ষে পথচারী নারী নিহত, আহত অন্তত ৩০
বিজ্ঞপ্তিঃ

সারাদেশে  প্রত্যেক  বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ই-মেইল-Mmdidar7@gmail.com মোবাইলঃWhatsApp&Imo:01878518066 #বিশ্বব্যাপী আপনার প্রতিষ্টান ও পন্যের প্রচার প্রসারে বিজ্ঞাপন দিন

সীতাকুণ্ডে সোনার দোকানের কর্মচারীর হ্যাণ্ডকাপ পড়া ছবির পেছনে ভয়ঙ্কর মবের গল্প

  • আপডেট সময়ঃ মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি-

সোমবার বিকেল পাঁচটা। স্বর্ণের দোকানে কাজ করছিলেন দোকান মালিক সমর ভৌমিক ও কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মা। ঠিক ওই সময়ে সমরের মুঠোফোন বেজে ওঠে। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কথা বলেন তার বড় ভাই শ্রীকান্ত ভৌমিক অমর। তাকে উপজেলা ভূমি অফিসে আটকে রাখা হয়েছে জানানোর পাশাপাশি তার ভাই সমরকে ভূমি অফিসে আসতে বলেন। সমর দোকান বন্ধ করে কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মাকে নিয়ে উপজেলায় ছুটে যান। তারা উপজেলার ভেতরে থাকা জামে মসজিদ এলাকায় পৌঁছানোর পর কথিত সাংবাদিক নামধারী একদল দুর্বৃত্ত স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মার উপর চড়াও হন। তারা তার ওপর মব সৃষ্টি করেন এবং মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশকে ডেকে তার হাতে হ্যান্ডকাপ পড়াতে বলেন। পুলিশ এতে অসম্মতি জানালে তাকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দেন এবং হ্যান্ডকাপ পড়াতে বাধ্য করে। এরপর কথিত সাংবাদিকরা কামাল কান্তি শর্মাকে মারতে মারতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে নিয়ে যান। এই সময় সেখানে নামজারিতে সনদ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আটকে রাখা শ্রীকান্ত ভৌমিক অমরের সাথে তাকেও একই ঘটনা গ্রেফতার করাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর চাপ সৃষ্টি করেন। নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতর থেকে হ্যান্ডকাপ পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে দেন। এ সময় কথিত সাংবাদিকদের চাপে বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দু’জনকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ঘটনার ঘন্টাখানেক পর নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ফ্রুটেজ দেখে মবের বিষয়টি নিশ্চিতের পর ইউএনও সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শ্যামল কান্তি শর্মাকে ছেড়ে দিতে নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ধরনের ঘটনার জন্য তার পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মবের শিকার হওয়া স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মা জানান,মালিকের কথায় দোকান বন্ধ করেন এবং মালিকের সাথে উপজেলায় যান তিনি। উপজেলা জামে মসজিদের সামনে দাঁড়ানোর পর জাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী,সোলাইমান মেহেদী,ফারহান সিদ্দিক,মহিউদ্দিন সহ বেশ কয়েকজন কথিত সাংবাদিক তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে জাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী ও সোলায়মান মেহেদী “মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই শালা সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের এক সাংবাদিকের ভাই,তাকে ধর,মিথ্যে মামলায ফাঁসিয়ে দে”বলে দৌড়ে এসে মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে থাকা পুলিশকে ডেকে আমার হাতে হ্যান্ডকাপ পড়াতে বলেন। পুলিশ তাকে অসম্মতি জানালে তাদেরও “স্বৈরাচারের দোসর” আখ্যা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বলে ভয়ভীতি দেখেন । এতে পুলিশ বাধ্য হয়ে আমার হাতে হ্যান্ডকাপ পরান। পুলিশ হাতে হ্যান্ডকাপ পরানোর পরও তারা নানা ধরনের অশালীন ভাষায় স্লোগান দিতে দিতে আমাকে টানতে টানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে তারা আমাকে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনেই হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো ছবি তুলেন। পরে তাদের চাপে বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউএনও অফিসে আটক অমরের ছোট ভাই উপহার জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী সমর ভৌমিক জানান,তার বাবা ও চাচার নামে একটি নামজারি করাতে ভূমি অফিসে ফাইল জমা দিয়েছিলেন জিয়া নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে। অনলাইন আবেদনের জন্য ফাইলে তার বড় ভাইয়ের মুঠোফোন নাম্বারটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু নামজারি ফাইলে ওয়ারিশ সনদ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সুপ্রীতি জুয়েলার্স এর মালিক তার বড় ভাই অমরকে ভূমি অফিসে আটকে রাখেন এসিল্যান্ড। পরে তাকে ইউএনও’র কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি তার বড় ভাইয়ের মুঠোফোন থেকে জানতে পেরে তার দোকান কর্মচারী শ্যামল কান্তি শর্মাকে নিয়ে তিনি উপজেলায় ছুটে যান। উপজেলা জামে মসজিদের সামনে যাওয়ার পর কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু দুর্বৃত্ত তার কর্মচারীর উপর চড়াও হয়। তারা কোন ধরনের কারণ ছাড়াই তাকে মারতে মারতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে তাকেও একইভাবে মিথ্যা ঘটনায় জড়িয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। দুর্বৃত্তরা মব করার সময় তার ছোট ভাই সাংবাদিকতা কেন করে সেই অপরাধে তাকে শাস্তি পেতে হবে বলেও হুংকার দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান,অভিযোগের বিষয়টির সাথে মবের শিকার হওয়া স্বর্ণের দোকান কর্মচারীর কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। দোকান মালিক তার সামনে থেকে চাবি দিয়ে যেতে ওই কর্মচারীকে ফোন করেছিল। তিনি মূলত দোকান বন্ধ করে চাবি দিতেই উপজেলা এসেছিলেন। তার উপর ঘটে যাওয়া ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.ফখরুল ইসলাম জানান,প্রথমে তিনি বিষয়টি বুঝতে না পেরে স্বর্ণের দোকানের ওই কর্মচারীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। পরে সিসিটিভি ফ্রুটেজ মবের বিষয়টি নিশ্চিতের পর তাকে ছেড়ে দিতে ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করেন। সাংবাদিক পরিচয়দান কারী তিন চার জন ব্যক্তি বিষয়টি ভুল ভাবে উপস্থাপন করে স্বর্ণের দোকানের ঐ কর্মচারীকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024

Theme Download From ThemesBazar.Com
Translate »