
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডঃ
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতের ভয়াল সাগরের জলোচ্ছ্বাসের ঘটনা সীতাকুণ্ডের উপকূলবাসীর মনে গেথে আছে,আকাশে কালো মেঘ দেখলেই আতংকে কাটে তাদের রাতদিন।
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের আলেকদিয়া গ্রাম। বিশাল এ গ্রামটিতে অন্তত ছয় হাজার লোকের বসবাস। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রায় ৩৫ বছর কেটে গেছে জলোচ্ছ্বাসের ঘটনা। এত দীর্ঘ সময়েও এ গ্রামের মানুষের দূঃখ ঘুচলো না। প্রতি মূহুর্ত তাদের প্রাকৃতিক দূর্যোগের কথা স্বরণ করতে হয। দীর্ঘ ৩৫ বছরেও একটি টেকসই বেড়িবাঁধ না হওয়াটা এ গ্রামবাসীর সবচেয়ে বড় দূঃখ বলে জানান এখানকার মানুষ।স্হানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দীন (৫৬) জানান, সরকার আসে সরকার যায় তাদের দূঃখ ঘুচে না। কুমিরার আলেকদিয়া গ্রাম ছাড়াও সীতাকুণ্ড উপকূলীয় ১৯ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় সাগরের তীরবর্তীতে থাকা উপকূলবাসীর এখন নির্ঘুম রাত কাটছে। দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার জোড়ামতল, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আকিলপুর, মুরাদপুরের বসরতনগর, গুলিয়াখালী, পশ্চিমসৈয়দপুর,
শেখের হাট, বগাচতরসহ আরো কয়েকটি অঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় হাজারো মানুষ আতংকে রয়েছে। তার মধ্যে কুমিরা ইউনিয়নের আলেকদিয়া বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই করুণ। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর সময়মত সংস্কার না করার কারণে আমরা কৃষক পরিবারগুলো জমিতে কোনো সবজি আবাদ করতে পারছি না। আমার মত একাধিক কৃষক পরিবারের হাজার হাজার একর জমির ফসল সাগরের লোনা পানি প্রবেশ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের ব্যাপক হারে ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, উপকূলীয় তীরবর্তীতে থাকা উপকূলবাসীর বসতভিটায় সাগরের লোনাপানি ঢুকে পড়ে। পুকুরে মাছ চাষ হয় না। সব পুকুরে জোয়ারের পানি ঢুকে লবনাক্ত হওয়ার কারণে কোন মাছ হয়না। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইদ্রিস মিয়া আমাদের সময়কে জানায়, তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী মরহুম এল কে সিদ্দিকী এখানে উপকূলে বক্ল বসিয়েছিলেন। এরপর থেকে এখানে আর কোন ধরণের সংস্কার হয়নি৷ বেড়িবাঁধ না থাকায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল জলোচ্ছ্বাসে এ সীতাকুণ্ডে অন্তত পাঁচশতাধিক মানুষ মারা যায়। এছাড়া গবাদি পশু মারা যায় হাজারো। এ আলেকদিয়া গ্রামটি সম্পুর্ন অরক্ষিত বেশী। প্রতিদিনই জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় এলাকাটি। এখানে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ খুবি জরুরি।
এলাকাবাসী জানায়,আকামমে কালো মেঘ দেখলেই আমাদের ঘুম হয়না,৯১ সালের স্বজন হারাদের কথা মনে পড়ে যায়।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply