
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সীতাকুণ্ডে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনে এখনো কোনো সংসদ সদস্য নেই। এর ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চল, শিপইয়ার্ড, বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পর্যটন এলাকার পর্যাপ্ত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন শিল্পকারখানা, জাহাজ ভাঙা শিল্প, সমুদ্র উপকূল, পাহাড় ও একাধিক পর্যটন কেন্দ্র দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশরক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চলের সমস্যা সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের অভাবে সরকারি দপ্তরগুলো প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ওপর কাজের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি থাকায় নাগরিক সেবা প্রাপ্তি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তা
গত ৩০ জুন ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগও শেষ হয়ে যায়। তবে আসনটিতে উপ-নির্বাচন হবে, নাকি পরবর্তী সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীর বিষয়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসবে—সংক্ষিপ্ত রায়ে সেটি স্পষ্ট করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ রায়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেছেন আসলাম চৌধুরী।
দেশের এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পর্যটন এলাকার মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি হোক এবং সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বের অনিশ্চয়তা দূর হোক।
সীতাকুণ্ডবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—সংসদ থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিত্বের এই সংকটের অবসান হবে কবে?
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply