চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০ নং সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর এলাকার শতবর্ষী ‘বদ্দার পুকুর’ নানান প্রক্রিয়ায় ভরাট চলছে। অথচ এর আশপাশে পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি না থাকায় পুকুরটির অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। লতিফপুর রেললাইন সংলগ্ন এই বড় পুকুরটির চারপাশ গত এক বছর ধরে বিভিন্ন কৌশলে ভরাট করে একের পর এক ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী মাকসুদুর রহমান ওরফে বজল সওদাগর পুকুরটির চারপাশের বিভিন্ন অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে ঘর নির্মাণ করছেন।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জাকির হোসেন ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দীন পরিদর্শনে গিয়ে সত্যতা পান। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর দায়সারা ভূমিকা পালন করায় বজল সওদাগর আইনের তোয়াক্কা না করে প্রায় ঘর নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। এর আগেও তিনি একই স্থানে পুকুরের অংশ ভরাট করে একটি ঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের নামমাত্র নোটিশ এবং কর্মকর্তাদের নমনীয় ভূমিকার কারণেই ভরাটকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে ওমর ফারুক নামের আরেক ব্যক্তি পুকুরপাড়ে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাওয়ের কাজ করলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, একে একে এভাবে চলতে থাকলে শতবর্ষী এই পুকুরটির অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। তবে অভিযুক্ত ওমর ফারুক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তিনি পানির কোনো অংশ ভরাট করছেন না; বরং পুকুরপাড়ের অংশটি নার্সারির জন্য এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এই পুকুরে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ শতাধিক মানুষ গোসল করেন। পাশে একটি মসজিদ থাকায় মুসল্লিরা অজু করতে আসেন। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে অজু বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যে কারণে ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।
অভিযুক্ত মাকসুদুর রহমান ওরফে বজল সওদাগরের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আমার জায়গা আমি ভরাট করছি, এলাকাবাসী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাথাব্যথা কেন? আমি পরিবেশ অধিদপ্তরে গিয়েছিলাম, তাদের কাছে আমার নম্বর আছে। কোনো ব্যবস্থা নিলে তারা নেবে, সেটা তাদের বিষয়।”
এ বিষয়ে পূর্বে তদন্তে যাওয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দীনের মুঠোফোনে বারবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলামের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুজাহিদুর রহমান বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আঞ্চলিক অফিস থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি শুনানিতে অংশ নেননি। তাকে আবারও নোটিশ দেওয়া হবে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড: সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ (শিপ রিসাইক্লিং) শিল্পের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয়…
জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধি: চন্দনাইশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমাকে প্রত্যাহার করে…
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।…
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লিজ নেওয়া পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে মো.…
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী ছেলেকে বিদায় জানাতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে…
জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ চন্দনাইশ উপজেলার বিজিসি ট্রাস্ট এলাকায় একটি অবৈধ করাতকলে যৌথ অভিযান…
This website uses cookies.