চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লিজ নেওয়া পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. মনজুর আহমেদ (৪০) নামের এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মনজুর আহমেদ উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকার আব্দুল মোনাফের পুত্র এবং ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক। তিনি পেশায় একজন বাসচালক ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ:
নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তারের এজাহার সূত্রে জানা যায়, তাঁদের বাড়ির পাশে ক্যাপ্টেন রানা নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি পুকুর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন মনজুর আহমেদ। সম্প্রতি ওই পুকুরের পানি সেচ দেওয়ার জন্য পাম্প স্থাপন করতে গেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের স্থানীয় নেতা মেহেদী হাসান রানা ও তার সহযোগীরা বাধা দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মেহেদী হাসান রানা ফোনে মনজুরকে পুকুরপাড়ে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে মেহেদী হাসান রানা তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে দেন। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের আকুতি ও মামলা:
ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মেহেদী হাসান রানাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—মো. নিশান, মো. আলমগীর, জাহাঙ্গীর হোসেন (রনি), আশিক, মো. সাইমন, আমির হোসেন ও মহিন উদ্দিন।
নিহত মনজুর আহমেদের ছেলে আব্দুল্লাহ তাহিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবাকে যখন তারা কোপাচ্ছিল, আমি বাবার বুকে পড়ে প্রাণভিক্ষা চেয়েও পাইনি। চোখের সামনে বাবাকে হত্যা করেছে রানার বাহিনী।” সে আরও জানায়, মামলার ২ নম্বর আসামি নিশান চার বছর আগের একটি হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের কারাবন্দি ছিলেন এবং কিছুদিন আগে জামিনে মুক্তি পান। একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে এখন পরিবার ও পড়াশোনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দুই ভাই।
প্রশাসনের বক্তব্য ও দাফন:
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “পুকুরে মাছ ধরা ও পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মনজুর আহমদ আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধি: চন্দনাইশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমাকে প্রত্যাহার করে…
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।…
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী ছেলেকে বিদায় জানাতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে…
জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ চন্দনাইশ উপজেলার বিজিসি ট্রাস্ট এলাকায় একটি অবৈধ করাতকলে যৌথ অভিযান…
জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের চন্দনাইশে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে গ্যাস সিলিন্ডার ক্রসফিলিংয়ের অভিযোগে…
নিজস্ব সংবাদদাতা: সীতাকুণ্ডে বালু উত্তোলনের ড্রেজারের মালিকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে…
This website uses cookies.