চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে (অথবা গ্যাসজনিত) দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ওই ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ৯ জন শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে শিল্প মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নেয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে বলা হয়, ‘The Ship Breaking and Recycling Rules-2011’ অনুযায়ী দুর্ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে। কমিটিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BSBRA) প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুরুন্নাহারকে কমিটির সদস্য-সচিব করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার মূল কারণ খতিয়ে দেখবে কমিটি:
অফিস আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার স্থান ও মূল কারণ উদ্ঘাটন করবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা কিংবা গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে।
এ ছাড়া দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং ইয়ার্ডে PPE ব্যবহারের ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখবে কমিটি।
দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোনো অদক্ষতা বা অবহেলা ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ‘Emergency Response Team’ ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
ইয়ার্ডে নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ইয়ার্ড ইনচার্জ, শিপ ইনচার্জ ও কাটিং ফোরম্যানসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল ছিল কি না এবং নিয়োজিত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা যথাযথ ছিল কি না—সেটিও যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।
ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার বিষয়:
তদন্তে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারকে শ্রম আইনে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কি না এবং আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে কমিটি।
এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় যেকোনো বিষয় অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে শিল্প সচিবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ অফিস আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (BSBRA) স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারাও ঘটনার কারণ নির্ণয় করবে বলে জানা গেছে।
খুলনা সংবাদদাতা : বর্ণাঢ্য আয়োজনে দাকোপে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন হয়েছে। দাকোপ উপজেলা জাতীয়…
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা…
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজের গ্যাস নিষ্কাশনকালে জমে থাকা বিষাক্ত…
রংপুর সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা…
কাইয়ুম চৌধুরী: বাংলাদেশে পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) চর্চা, টেকসই নেতৃত্ব এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে…
কাইয়ুম চৌধুরী: আবুল মনসুর (৫৫) ছিলেন ফেরদৌস শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ফোরম্যান এবং তার ছোট ভাই নাসির…
This website uses cookies.