
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ৮নং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড শীতলপুর বগুলাবাজার এলাকায় ছয় মাস আগে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ভাই হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। আদালতের নির্দেশে দাফনের ছয় মাস পর কবর খুঁড়ে নিহতের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর। অভিযোগ অনুযায়ী, শীতলপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তার ছোট ভাই তাজুদ্দিনের হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনার পরপরই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। প্রথমে স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জসিম উদ্দিনকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তখন সবাই ধারণা করেছিল, পুকুরের ঘাটে আঘাত লেগে তিনি পানিতে পড়ে আহত হয়েছেন।
কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর জসিম উদ্দিনের মৃত্যু হলে ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত তাজুদ্দিনের স্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সত্য—জসিম উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল এবং পরে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
এই স্বীকারোক্তির পর এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর পর বিষয়টি মামলা হিসেবে আদালতে প্রক্রিয়াধীন থাকলেও নিহতের স্ত্রী ও কন্যারা শুরুতে ময়নাতদন্তের গুরুত্ব উপলব্ধি না করায় দাফনের আগে কোনো আদেশ নেওয়া হয়নি।
মামলার শুনানিকালে আদালত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার আদালতের আদেশে মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদালতের নির্দেশে কবর থেকে জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির লাশ উত্তোলন করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply