
জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
জীবন ও জীবিকার তাগিদে অবৈধভাবে চোরাইপথে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সময় পরেই মারা গেছে চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর জোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ফাহাদ (১৮)। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পিতা নূর মোহাম্মদ দুই দফা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।
গত ৩০ জানুয়ারি দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে ইথিওপিয়া হয়ে ১৫ দিন দুর্গম জঙ্গলে পথচলার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছায় ফাহাদ। তবে আফ্রিকায় পৌঁছেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান দালাল। দীর্ঘ পক্ষ কালব্যাপী পায়ে হেঁটে খেয়ে না খেয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে স্ট্রোক করে মারা যায় ফাহাদ। ছেলের ইচ্ছা পূরণ করতে ১০ লক্ষ টাকায় জমি বিক্রি করে দালালের মাধ্যমে ফাহাদকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠায় তার পিতা নুর মোহাম্মদ।
গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিমানযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার পথে রওনা হয় মো. ফাহাদ। প্রথমে ইথিওপিয়া, সেখান থেকে আরেকটি বিমানে জিম্বাবুয়ে হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার কথা ছিল তার। দালালেরা ইথিওপিয়া থেকে জঙ্গলের পথ ধরে জিম্বাবুয়ে নিয়ে যায় তাকে। সেখান থেকে সড়ক পথে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছায় ১৫ ফেব্রুয়ারি। ঐদিন সকালে ফাহাদ দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেছে এমন খবর পেয়েছেন তার পিতা নুর মোহাম্মদ। কিন্তু সেই রাতেই আরেকটি টেলিফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর দিয়ে বলেন, “আপনার ছেলে আর নেই, ইন্নালিল্লাহ পড়েন।” এ কথা শোনার সাথে সাথে ফাহাদের পিতা মুহূর্তে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
নুর মোহাম্মদের বলেন, ছেলেকে কখনো কোনো অভাব দেখতে দেননি, বলতেন, বাবা তুই পড়ালেখা কর। কিন্তু সে দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে চাইত। এরপর ব্যবস্থা করে দেন। এখন আর ফাহাদ আর নেই। এই শোকে তার মা-বাবা দুজনই মুহূর্তে মুহূর্তে জ্ঞান হারাচ্ছেন
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply