শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামে আমবাগানের বাসা থেকে গুরু মা মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার, শ্বাসরোধে হত্যার ধারণা খুলনা দাকোপের ঐতিহ্যবাহী বাজুয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বর্ধিত সভা জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও ৬ দফা দাবিতে উত্তাল রাজপথ জিয়াউল আহসানের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি: নিজ হাতে হাজারো হত্যার নেপথ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ে অর্থমন্ত্রী খসরু: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমাতে যাত্রাবাড়ী থেকে সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে তারেক রহমানের সরকার মানেই সকল ধর্মের জন্য সুশাসন এবং বাংলাদেশীদের জন্য এক অকৃত্রিম ভালোবাসা— আসলাম চৌধুরী চন্দনাইশে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ সীতাকুণ্ডে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ সম্মেলন
বিজ্ঞপ্তিঃ

সারাদেশে  প্রত্যেক  বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ই-মেইল-Mmdidar7@gmail.com মোবাইলঃWhatsApp&Imo:01878518066 #বিশ্বব্যাপী আপনার প্রতিষ্টান ও পন্যের প্রচার প্রসারে বিজ্ঞাপন দিন

দোয়ারাবাজারে ১১ দিন পর কিশোরী উদ্ধার হলেও মামলা হয়নি

  • আপডেট সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪

ছাতক প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ১৫ বছর বয়সী পিতৃহীন এক কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা অবশেষে ধামাচাঁপা পড়ে গেলো। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা শহীদ মিনার এলাকায়। ঘটনার ১১দিনের মাথায় পুলিশের চাঁপে গত রোববার ওই কিশোরীকে থানায় হাজির করা হয়। ধর্ষকদের ভয়ে নির্যাতিতা ও তার পরিবার মামলা না করায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনা দফারফা করেছে পুলিশ ও কতিপয় গণমাধ্যমকর্মী এমনই অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।

তবে পুলিশ বলছে, ভিকটিমের পক্ষে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় ওই কিশোরীকে তার চাচার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ঘটনার পর ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরিক্ষা-নিরিক্ষা না করেই আপন চাচার মাধ্যমে এক ধর্ষকের বড় ভাইয়ের কাছে রাজধানী ঢাকায় তার বাসায় পাঠানো হয়েছিল। যাতে ভিকটিম ছাড়া থানায় কোন মামলা না হয়। তবে ধর্ষক লম্পটদের বাঁচানোর জন্য স্থানীয় একটি কু-চক্রি মহল ঘটনার শুরু থেকেই তৎপর ছিল বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাবা-মা না থাকায় ওই কিশোরী চাচার বাড়িতে বসবাস করতো। গেল ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় চাচা হানিফ মিয়ার সাথে রাগ করে স্থানীয় বাঘমারা বাজারে যায় বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা কলোনির বাসিন্দা ওই কিশোরী। সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালামসহ বাজারে জড়ো হওয়া গন্যমান্য লোকজন কিশোরিকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য টমটম গাড়ির চালক আবদুল কদ্দুসকে দায়িত্ব দেন। এদিকে আবদুল কদ্দুস কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে না নিয়ে সীমান্তের চিহৃিত চোরাকারবারি জুটন ভূইয়ার কাছে নিয়ে যায়। মধ্যরাতে কিশোরী মেয়েকে জোরপূর্বক মৌলারপাড় এলাকার আপনের টিলায় নিয়ে জুটনসহ ৩জন মিলে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন ভোরে ওই কিশোরী ধর্ষকদের চোখ ফাকি দিয়ে পালিয়ে স্থানীয় সাবেক মেম্বার আবুল কালামের পাশের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে। খবর পেয়ে স্থানীয় ৩জন গণমাধ্যম কর্মী কিশোরীর কাছে এসে তার ভিডিও বক্তব্য ধারণ করেন। ধারনকৃত ভিডিও ওই বক্তব্যে কিশোরী মেয়েটিকে কারা কোথায় নিয়ে কি ভাবে ধর্ষণ করেছে সম্পূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরে। এসময় সাবেক মেম্বার আবুল কালামও উপস্থিত ছিলেন। পরে ওই গণমাধ্যম কর্মীরা মোটরসাইকেল যোগে অসহায় ওই কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসে। ততক্ষণে ধর্ষকরা খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলোচনা করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়। রহস্যজনক কারণে পুলিশ কোন প্রকার মামলা না নিয়ে কিংবা ডাক্তারি পরিক্ষা-নিরিক্ষা না করেই কৌশলে চাচার জিম্মায় মেয়েটিকে তুলে দেয়। ধর্ষণের আলামত নষ্ট ও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাচাকে ম্যানেজ করেই লম্পটরা কিশোরীকে অভিযুক্ত জুটন ভূইয়ার বড় ভাই বাবুল ভূইয়ার ঢাকার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে গত ১৭ এপ্রিল কিশোরীর সন্ধানে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাশ (অপরাধ), এএসপি রণজয় চন্দ্র মল্লিক (ছাতক সার্কেল), দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল হাসান কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে পরদিন ১৮ এপ্রিল সকাল ১০টার মধ্যে কিশোরীকে থানায় উপস্থিত করার জন্য তার চাচা হানিফ মিয়াকে নির্দেশ দিয়ে আসেন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ। কিন্তু ওইদিন কিশোরীকে থানায় উপস্থিত করা হয়নি। অবশেষে পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ২১ এপ্রিল রোববার দোয়ারাবাজার থানায় কিশোরীকে হাজির করা হয়।
কিশেীর চাচা হানিফ মিয়া বলেন, তার ভাতিজি ঢাকায় বাবুলের বাসায় ছিল। তাকে বিমানে সিলেট নিয়ে আসেন বাবুল। পরে তিনি তার ভাতিজিকে সিলেট থেকে দোয়ারাবাজার থানায় নিয়ে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, ভাতিজির মাথা ঠিক নেই, সে একেক সময় একেক রকম কথাা বলে। এবিষয়ে তার মামলা করার ইচ্ছে নেই।

এদিকে, নিজের পূর্বের দেওয়া বক্তব্যে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও ধর্ষকদের ভয়ে এখন ধর্ষণের চেষ্টার কথা বলছে ওই কিশোরী। সে থানায় উপস্থিত একাধিক সাংবাদিকদের জানায়, স্থানীয় ৩জন সাংবাদিক তাকে মোটর সাইকেল যোগে থানায় নিয়ে এসেছিলেন। এরপর তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল হাসান বলেন, কিশোরীর চাচা হানিফ মিয়ায় থানায় নিয়ে এসেছেন। তার পরিবার মামলা দিতে চাচ্ছে না। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তার চাচার জিম্মায় কিশোরীকে দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) রণজয় চন্দ্র মল্লিক বলেন, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত কিশোরীর পরিবারকে মামলার জন্য বুঝানো হয়েছে, কিশোরীর চাচা রাজি হয়নি। কি করবো আমরা নিরুপায় হয়ে কিশোরীর চাচার কাছে তাকে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024

Theme Download From ThemesBazar.Com
Translate »