
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন আপিল বিভাগে বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হওয়ায় উপনির্বাচনে কাজী সালাউদ্দিনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড এবং আকবর শাহ ও খুলশী থানার আংশিক) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর আইনি জটিলতায় মনোনয়ন বাতিলের আদেশের পর উপনির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এমতাবস্থায় সীতাকুণ্ড আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নাম আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা এবং কাজী সালাউদ্দিনের গ্রুপকে সীতাকুণ্ডে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে না দেওয়ায় আগামী উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উভয় পক্ষের মূল নেতাদের বক্তব্যের পর পৌরসদরের বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনের অরাজকতার কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। তবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে দলের হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের দেড়-দুই মাস আগেই প্রাথমিকভবে কাজী সালাউদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী সালাউদ্দিন এলাকার আনাচে-কানাচে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে ভোটারদের নজর কেড়েছিলেন। পরবর্তীতে আসনটিতে পুনর্মূল্যায়নে আসলাম চৌধুরীকে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক আপিল বিভাগের রায়ে আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিলসংক্রান্ত আইনি বাধা তৈরি হয় এবং আসনটিতে উপনির্বাচনের আবহ তৈরি হয়। এই আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় সীতাকুণ্ডের বিএনপি নেতৃত্ব ও তৃণমূলের রাজনীতি নতুন মেরুকরণের মুখে পড়েছে। উপনির্বাচন হলে রাজপথের পরীক্ষিত নেতা কাজী সালাউদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়ে পুনরায় মাঠে নামানো হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এমনকি তাঁকে মাঠে নামানোর পক্ষে তৃণমূলের এক অংশ জোরালো দাবি তুললেও অন্য অংশ হাইকমান্ডের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা সালাউদ্দিনের রয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তবে নির্বাচন ও প্রার্থীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। উপনির্বাচনের এই দোলাচলে তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দৃষ্টি এখন গুলশান কার্যালয়ের দিকে—হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেয় কিংবা নতুন কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসনটির রাজনৈতিক হাল ধরা হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ মহলের মতে, আসলাম চৌধুরী রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) করে রায় নিজেদের পক্ষে নিতে না পারলে কাজী সালাউদ্দিনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে দেশের উচ্চ আদালতের ইতিহাসে আপিল বিভাগের মামলায় মনোনয়ন বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে রিভিউ করে রায় পরিবর্তনের নজির খুবই কম। এছাড়া উপনির্বাচন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করছে।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply