
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আজ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ঐতিহাসিক লংমার্চ শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে একটি বিশাল উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
উদ্বোধনী সমাবেশ ও শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য সকাল ৭টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বরের সমাবেশ শুরু হয়। এতে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন, যার ফলে পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১৮ কোটি মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই আজকের এই লংমার্চ। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসবাদ ও জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে এই লংমার্চ শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামে গিয়ে পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
লংমার্চের রুট ও পথসভা ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চ বহরটি বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনীর মহিপালে সংক্ষিপ্ত পথসভা ও সংবর্ধনা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানাচ্ছেন। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে একটি বিশাল সমাপনী সমাবেشیর মাধ্যমে এই লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার নির্বাচনের আগে সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর করেনি। দেশে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদে জোরালো ভূমিকা পালন করেও সুফল না পেয়ে বিরোধী দল রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে।
লংমার্চে অন্যান্যদের মধ্যে আরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তাপ বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply