শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জিয়াউল আহসানের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি: নিজ হাতে হাজারো হত্যার নেপথ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ে অর্থমন্ত্রী খসরু: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমাতে যাত্রাবাড়ী থেকে সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে তারেক রহমানের সরকার মানেই সকল ধর্মের জন্য সুশাসন এবং বাংলাদেশীদের জন্য এক অকৃত্রিম ভালোবাসা— আসলাম চৌধুরী চন্দনাইশে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ সীতাকুণ্ডে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ সম্মেলন খুলনার দাকোপে বাজুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় কুমার রায়ের বিদায়ী সংবর্ধনা সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাটঘর থেকে ৪১০ বস্তা অবৈধ সার উদ্ধার সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে চন্দনাইশে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
বিজ্ঞপ্তিঃ

সারাদেশে  প্রত্যেক  বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ই-মেইল-Mmdidar7@gmail.com মোবাইলঃWhatsApp&Imo:01878518066 #বিশ্বব্যাপী আপনার প্রতিষ্টান ও পন্যের প্রচার প্রসারে বিজ্ঞাপন দিন

জিয়াউল আহসানের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি: নিজ হাতে হাজারো হত্যার নেপথ্যে

  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

​কুখ্যাত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান কোনো ধরনের রিমান্ড ছাড়াই নিজ মুখে প্রায় ১,৩৩৮ জনকে নিজ হাতে হত্যার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই জল্লাদ মানুষ হত্যার এক ভয়ঙ্কর কৌশল অবলম্বন করত। গুলি করার আগে সে যমটুপি খুলে নিতো—এ বিষয়ে এক নৌকার মাঝির প্রশ্নের জবাবে সে বলেছিল, মাথায় ঠিকঠাক জায়গায় গুলি না লাগলে মরতে অনেক সময় লাগে। খুব কাছ থেকে গুলি করলে মগজ ও রক্ত ছিটে হাতে আসত, সে কারণে সে নৌকায় বালিশ রাখতে বলত এবং বালিশ মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করত।

​তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া এক র‍্যাব কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, একবার তার সিনিয়র কর্মকর্তা ফোন করে তাকে জানান যে জিয়াউল আহসান আসছে এবং একটি নৌকা প্রস্তুত রাখতে। নৌকায় তিন জন তরুণকে তুলে মাঝনদীতে নিয়ে যাওয়ার পর জিয়া ওই র‍্যাব কর্মকর্তাকে তাদের মাথায় গুলি করার নির্দেশ দেয়। তরুণদের অপরাধ সম্পর্কে না জেনে এবং তাদের না চিনে ওই কর্মকর্তা গুলি করতে অস্বীকার করেন। তখন জিয়া নিজে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথম তরুণকে মাথায় গুলি করে এবং তার শরীরের সঙ্গে ইটের বস্তা বেঁধে ও পেট কেটে নদীতে ফেলে দেয়। দ্বিতীয়জনকে ইনজেকশন পুশ করে তাৎক্ষণিক হত্যার পর একইভাবে পেট কেটে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তৃতীয় তরুণকেও গুলি করে হত্যার পর একইভাবে পেট কেটে ইটের বস্তা বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

​জিয়া সাধারণত মাঝনদীতে নিয়ে এসব খুন করত যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। প্রতিটি লাশের পেট কেটে ইটের বস্তা বেঁধে দেওয়া হতো যাতে কোনোভাবেই লাশ ভেসে না ওঠে। শুধু বেসামরিক মানুষকেই নয়, বহু সামরিক অফিসারকেও সে গুম ও খুন করেছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর অনেক প্রত্যক্ষদর্শী অফিসারকে সে গুম করে হত্যা করে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারীরা যখন একজন প্রত্যক্ষদর্শী অফিসারকে খুঁজছিলেন, তখন জিয়া তাদের ঔদ্ধত্যের সাথে বলেছিল, “ওকে খুঁজবেন কেন? ও সুন্দরবনে মাছের পেটে আছে। তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলে দেওয়া হয়েছে।” কারণ জানতে চাইলে সে দাবি করেছিল, তৎকালীন শীর্ষ মহলের আদেশেই এসব করা হয়েছে।

​পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম সিরিয়াল কিলারদের তালিকায় জিয়াউল আহসানের অবস্থান অপরাধের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কলম্বিয়ার কুখ্যাত পেদ্রো লোপেজ বা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ. এইচ. হোমসের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধীদের খুনের সংখ্যা যেখানে দুই শ’র নিচে, সেখানে জিয়াউল আহসান একাই হাজারেরও বেশি মানুষকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এসব হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে জনগণের অর্থে কেনা অত্যাধুনিক অস্ত্র, যানবাহন ও সমরাস্ত্র ব্যবহার করে।

​সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময়ও জিয়ার মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি; সে বরাবরের মতোই ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে। বিচার চলাকালীন সময়েও তার মুখে ছিল মুচকি হাসি। এই নৃশংস আসামির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে দেশবাসীকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন দেশবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024

Theme Download From ThemesBazar.Com
Translate »