সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
সীতাকুণ্ডে উদুর পিন্ডি বুদুর ঘাড়ে চাপানোর মতো প্রফেসর জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ নেতাকে বাঁচানোর প্রতিবাদে লাইভ করায় উল্টো জামায়াত কর্মী বহিস্কৃত হয়েছেন।অন্যায় ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে জামায়াতের রুকন প্রফেসর জাহাঙ্গীর সীতাকুণ্ড মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে ছিলেন।সেখানে উপস্হিত জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঐ নেতাকে না ছড়ানোর জন্য জোরালো প্রতিবাদ করে এবং লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়লে নানা সমালোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনার জেরে জামায়াতের রুকন প্রফেসর মো. জাহাঙ্গীর থানায় আওয়ামী লীগের নেতা ছাড়িয়ে আনার ভিডিও লাইভ করা ওই জামায়াত কর্মী রুবেল আনছারীকে বহিষ্কার করায় ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠে।কারণ প্রফেসর জাহাঙ্গীর একজন রুকন ঐদিন থানায় উপস্থিত হয়ে ছিলেন তা ভিডিও দেখলে এবং থানার সিসি ফুটেজ দেখলে সত্যতা পাওয়া যাবে।ঐদিন তিনি একজন রুকন হয়ে কেন থানায় গেলেন এবং আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য কেন থানায় গেলেন ? এ অভিযোগ থাকার পরও বিষয়টি আড়াল করে উদুর পিন্ডি বুদুর ঘাড়ে চাপানোর মতো উল্টো রুবেলের উপর চাপিয়ে দিলেন। উল্টো থানায় আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিচ্ছে প্রতিবাদে এমন ভিডিও প্রচারে বহিষ্কার হলো জামায়াতে ইসলামীর নির্যাতিত ও ত্যাগী কর্মী রুবেল। যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য মামলার আসামী হয়ে ছিল।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সীতাকুণ্ড উপজেলার শাখার সহকারী সেক্রেটারী কুতুব উদ্দিন শিবলী স্বাক্ষরিত গত ১৭ সেপ্টম্বর প্রেস বিজ্ঞপ্তি সংগঠনের শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের এ কর্মীকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানানো হয়।বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে দলের শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুবেল আনসারী গত ১৪ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মেম্বারকে থানা থেকে জামায়াত নেতা ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ কারণে তাকে সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে এবং কর্মী ও প্রাথমিক সহযোগী সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।উপজেলা জামায়াতের প্যাডে শিবলী আরও উল্লেখ করেন, এর আগে একই ধরনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সীতাকুণ্ড উপজেলার সাবেক আমীর মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরীকেও বহিষ্কার করা হয়।যা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।কারণ গত ৭ আগষ্ট ২৫ইং দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক দিনকালে মাওলানা তাওহীদুল হকের বিরুদ্ধে বহিস্কার নিউজ প্রকাশিত হলে তৎক্ষণাৎ স্হানীয় মানব জমিন প্রতিনিধি সহ কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, এ ধরনের বহিষ্কারের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।কিন্তু গত বুধবার (১৭/০৯/২৫ইং) কুতুব উদ্দিন শিবলী স্বাক্ষরিত প্যাডে জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা তাওহীদুল হক বহিষ্কার এই ধরনের কথা ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলে কুতুব উদ্দিন শিবলীর প্রতি পৌরসভাসহ পুরো উপজেলায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ এবং সমালোচনা শুরু হয়।যা ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলে বুঝা যায়।এমনকি শিবলীর বিরুদ্ধে সমালোচনা সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ভাইরালও হয়ে যায়।জামায়াতের শত শত কর্মীরা জানান, এধরনের ন্যাক্কার জনক ঘটনা সীতাকুণ্ডের ইতিহাসে কখনো ৩৫/৪০ বছরেও দেখা যায়নি।যা কুতুব উদ্দীন গংরা শুরু করেছে।তারা সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব থেকে বহিস্কৃতদেরকে দিয়ে একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কল্পকাহিনী সাজিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।এটা বন্ধ না করলে সীতাকুণ্ডের রক্তে ঝরা ময়দান নষ্ট হয়ে যাবে। এতে কোন সন্দেহ নেই।তাছাড়া ইতিপূর্বে গত ৭ ফেব্রুয়ারী সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব দখলের পিছনেও কুতুব উদ্দীন শিবলীর ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে,বহিষ্কার আদেশে রুবেল আনছারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন,তার প্রতি বহিষ্কারাদেশ অন্যায়,অবিচার ও ভিত্তিহীন এবং অন্যায়কে আড়াল করার সামিল।কারণ ‘আলহামদুলিল্লাহ এটা মিথ্যা অপপ্রচার নয়, চির সত্য। সেলিম মেম্বারকে ছাড়াতে প্রফেসর জাহাঙ্গীর ভাই থানায় গিয়ে ছিল। আর একথা সাংবাদিকদের কাছে জাহাঙ্গীর ভাই বলেছে যে, উনি সেলিম মেম্বার আওয়ামী লীগ করে সেটা জানত না।এমনকি ওনার বক্তব্য দৈনিক সমকালসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।মুলত সত্য বলায় ও ইকবালের কাছে বিক্রি হয়ে আমাকে বহিষ্কার করে। আমি তো এমনিতেই আমি মিথ্যের বাহিনী থেকে দূরে ছিলাম।তবে সহযোদ্ধা ভাইদের প্রতি অনুরোধ সত্যকে সত্য বলবেন। তাহলেই আপনি নিজেকে ইসলামী আন্দোলনের সৈনিক বলে পরিচয় দিতে পারবেন।’
অপরদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী বলেন, ষড়যন্ত্র করে কোন সুফল বয়ে আনবে না। কিছু লোকের ষড়যন্ত্র এক দিন না এক দিন প্রকাশ হবে ইনশাআল্লাহ।