
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায় দ্রুতগতির লরির চাপায় মা-সহ নিহত হন ৫ জন। এ ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১০ মাসের শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনো শিশুটির কোনো স্বজনদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
গত ২৫ অক্টোবর রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরার রয়েল গেইট এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ফাতেমা আক্তারসহ ৫ জন প্রাণ হারান। অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ফাতেমার ১০ মাস বয়সী শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত অবস্থায় উদ্ধার করা শিশুটিকে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের শিবাশ্রম গ্রামে।
জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে (২৬ অক্টোবর প্রথম প্রহরে) চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনাগামী 'শাপলা পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাস সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় পৌঁছালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বাসটি মহাসড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে মেরামতের কাজ করার সময় কয়েকজন যাত্রী নেমে সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগতির লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চাপা দিলে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ফাতেমা আক্তার প্রাণ হারালেও তাঁর শিশু সন্তানটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বর্তমানে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। স্বজনদের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের নার্স ও সেবাকর্মীরাই শিশুটির দেখভাল করছেন।
মাকে হারানো অবুঝ শিশুটির স্বজনদের সন্ধান পাওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার শিবাশ্রম গ্রামের বাসিন্দা বা ফাতেমা আক্তারের পরিচিত কেউ বিষয়টি জেনে থাকলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অথবা হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
শিশুটির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পোস্টটি শেয়ার করার অনুরোধ করা হচ্ছে।