
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ফলজ গাছের চারা রোপণ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলাধুলার সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ঘোষণা দিয়েছেন যে, জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন, কোনো সন্ত্রাসী নয়।
এ সময় তিনি আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতনসংক্রান্ত সংকটের কথা জেলা প্রশাসককে জানান।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে জানান, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এছাড়া বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার বিষয়েও সরকারের উচ্চ মহলে প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের সমাজের প্রাণ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, "আমরা শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।" এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন।
জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, একসময় এই এলাকাকে ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বলা হতো। তবে গত ৯ মার্চের পর সেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং এলাকায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয়টি সড়কের নির্মাণকাজ চলছে, যার ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সড়কগুলোর কাজ শেষ হলে মানুষের চলাচল নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
জঙ্গল সলিমপুরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্ভাব্য জায়গাও নির্বাচন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক আলীনগর এলাকার নির্বাচিত স্থানসমূহ, নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্প এবং চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা বেগম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রণবেশ মহাজন, সহকারী প্রকৌশলী আখতারুজ্জামানসহ উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।