
সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ফ্যাসিস্ট আমলে নিহত জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত দাবিগুলো পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর সীতাকুণ্ড উপজেলা আমির মো. তাহের। এ সময় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা দায়িত্বশীল জসিমউদ্দীন আজাদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের থানা সভাপতি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মেজবাউল আলম রাসেল এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান আবুল হোসেনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সীতাকুণ্ড থানাধীন বিভিন্ন সময়ে নিহত ১১ জন জামায়াত-শিবির কর্মীকে স্মরণ করা হয়। তাঁরা হলেন—মো. রাসেল, মো. ওসমান, আমিনুল ইসলাম আমিন, আব্দুল্লাহ আল রাসেল বাবু, আলমগীর হোসেন, সাকিফুল ইসলাম রাসেল, মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ভূঁইয়া, মো. শাহজাহান, মো. মোশারফ হোসাইন, আবু বকর ছিদ্দিক পারভেজ ও রেজাউল হায়াত রোমান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হলেও পরবর্তীতে তদন্ত কার্যক্রম ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। কিছু মামলায় অর্থের বিনিময়ে এজাহার থেকে আসামির নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা দায়িত্বশীল জসিমউদ্দীন আজাদ বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে যেসব জামায়াত-শিবিরের কর্মীকে শহীদ করা হয়েছে, মামলা হলেও পুলিশ ও আওয়ামী লীগের দোষীরা মিলে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের ধরছে না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রশিবিরকর্মীকে আসামি করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। নেতারা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।
জামায়াত নেতারা বলেন, পুলিশ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে মামলাগুলো আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করলে তাঁরা তা সাধুবাদ জানাবেন। তবে সুষ্ঠু তদন্ত না করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি বা রাজনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হলে উপজেলা জামায়াত কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
পরিশেষে, শহীদদের হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত, চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলার বাদী, আইনজীবী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।