
সীতাকুণ্ডে বালু উত্তোলনের ড্রেজারের মালিকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা ড্রেজার আটক করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নস্থ ভূঁইয়ারহাটের পশ্চিমে বেড়িবাঁধ উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের ড্রেজারের মালিক মো. আরিফ তার ড্রেজারের পাইপ ওয়েল্ডিং করার জন্য উপকূলে আনেন। এ সময় বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের সন্ত্রাসী মান্নান সাগরের কাছ থেকে বালু উত্তোলনের জন্য মো. আরিফকে প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মান্নানের নির্দেশে ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়ারহাট এলাকার সন্ত্রাসী নুরুদ্দীন, আজাদ, দিদার, কমর আলী ও সজিব গংরা আরিফকে জিম্মি করে জোরপূর্বক ১ লাখ টাকার একটি চেক নিয়ে নেন। পরবর্তীতে গত শনিবার দিবাগত রাত ২টায় তারা আরও ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আরিফ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসী মান্নানের নির্দেশে গত এক মাস ধরে উল্লেখিত নুরুদ্দীন ও সজিব গংরা ড্রেজারটি আটক করে রাখে। এতে ড্রেজার মালিকের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে উপায়ান্তর না পেয়ে ড্রেজারের মালিক সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মান্নানের ইন্ধনে ভূঁইয়ারহাট এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে নুরুদ্দীন এবং শাহ্জাহান মোল্লার ছেলে সজিবের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী বিগত এক বছর ধরে অবৈধভাবে ভূঁইয়ারহাটের পশ্চিম বেড়িবাঁধ উপকূলসংলগ্ন সাগর থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে সাগরের পানির ঢেউয়ের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
ভুক্তভোগী ড্রেজারের মালিক মো. আরিফ জানান, "সন্ত্রাসী নুরুদ্দীন ও সজিবরা জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকার চেক নেওয়ার পর আরও ১ লাখ টাকাসহ মোট ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমার ড্রেজারটি আটক করে রাখে, যার ফলে আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।"
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, "বাদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ ব্যাপারে সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি জানান, অবৈধভাবে কাউকে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। কেউ এ ধরনের অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।