
কাইয়ুম চৌধুরী,সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র্যালির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুল রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করে সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
র্যালি ও কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক গোলাম মাইন উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, ডাক্তার সিদ্দিক আহমেদ, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরসালিন, ছালামত উল্লাহ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব সালে আহমদ ছলু, ফজলুল করিম চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা মো. বখতিয়ার উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, আওরঙ্গজেব মোস্তফা এবং সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিবেদটক কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। ‘সচেতন হই, পরিষ্কার রাখি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি’—এই স্লোগানের পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু ও মাদক—উভয় সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মাদকমুক্ত সমাজ নিশ্চিত করা সম্ভব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।