
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি:
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্বেচ্ছাসেবকদের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকায় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা ইকোপার্কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে দর্শনার্থী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের সামাজিক দায়িত্ব। নিজেদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।"
তারা আরও বলেন, "একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধ করে না, এটি মানুষের সুস্থ জীবন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমরা চাই, তরুণ সমাজ নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন করে তুলুক।"
এদিন ইকোপার্কে পড়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজপত্র ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না করার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা। আমরা যদি নিজের ঘর থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা, রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র ও অন্যান্য জনসমাগমস্থল পরিষ্কার রাখি, তাহলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’-এর নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে।
সংগঠনটির পরিচালক ইকবাল হোসাইন সিদ্দিকী, সরোয়ার উদ্দিন আনসারী ও মোক্তার হোসাইন সাইমন-এর নেতৃত্বে এবং সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন সদস্য মো. রনি, মো. রিয়াদ, তাওসিফ, মারুফ হাসান, সালমানুল হক আনাস এবং সীতাকুণ্ডের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক রুহিত ও রফিকুল ইসলাম।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, তরুণরাই পারে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে। সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হলেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নিজে পরিষ্কার থাকি, অন্যকেও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহিত করি—সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গুমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।"