
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আশঙ্কাজনক হারে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত মশার উপদ্রবে দিন-রাত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন; কয়েল জ্বালিয়েও মিলছে না স্বস্তি। এর মধ্যে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলা পৌর সদরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মনিরা (৫) নামের এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মনিরা সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার নুরুন্নবীর মেয়ে। এর দুই দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল।
পরিবারের বক্তব্য ও চিকিৎসায় বিলম্ব:
নিহত মনিরার বাবা নুরুন্নবী জানান, গত শুক্রবার মনিরার গায়ে জ্বর আসে। শনিবার নাপা খাইয়েও জ্বর না কমায় রবিবার তাকে স্থানীয় ডা. ধীমান চৌধুরীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসক এনএস ওয়ান (NS1) পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার তাকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মেডিকেয়ার ল্যাবে এনে পুনরায় ওই চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসক মুখে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে দ্রুত চমেক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। বুধবার তাকে চমেকে আইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনতে কিছুটা দেরি হয়ে যাওয়ায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল।
মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম উদ্দিন জানান, মনিরা তার মেয়ের সহপাঠী ছিল। এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জ্বরের শুরুতেই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য:
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলতাফ হোসেন জানান, সীতাকুণ্ডে গত তিন মাস ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে গ্রাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর আগে গত মঙ্গলবার ভাটিয়ারী মির্জানগর গ্রামের মো. রাফসান (২৬) নামের এক যুবক ডেঙ্গুতে মারা যান। দুই দিনের ব্যবধানে শিশু ও যুবকের মৃত্যুতে ডেঙ্গু আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ডা. আলতাফ হোসেন আরও জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বা চমেক হাসপাতালে রেফার্ড হচ্ছেন। তবে শিশু মনিরাকে সরাসরি চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, জ্বরে আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে এবং রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে ৪-৫ দিনেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন এবং একজনকে চমেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশনা:
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনায় মশার উৎপত্তিস্থল ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। সেই সঙ্গে জঞ্জাল ও আবর্জনা মুক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি। জ্বর অনুভূত হওয়া মাত্রই দ্রুত হাসপাতালে গেলে সুস্থ হওয়া সম্ভব।