
বিশেষ প্রতিনিধি:
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানবপাচারকারী ও ভিক্ষাবৃত্তি চক্রের নির্মমতার শিকার হয়েছে ৯ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। অপহৃত বা নিখোঁজ হওয়ার পর পা কেটে পঙ্গু বানিয়ে তাকে নামানো হয়েছিল ভিক্ষাবৃত্তিতে। অবশেষে নিখোঁজের দীর্ঘ সাত মাস পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঐতিহ্যবাহী চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকা থেকে পঙ্গু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাকে। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষ বাবার বুকে ফিরেছে শিশুটি।
উদ্ধার হওয়া রায়হান লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ সাতগড় নয়াপাড়ার দিনমজুর নাজিম উদ্দিনের ছেলে। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় সাত মাস আগে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় এবং একপর্যায়ে কক্সবাজার চলে যায়।
রায়হানের পারিবারিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, কক্সবাজার পৌঁছানোর পরপরই রায়হান একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কবলে পড়ে। সেখানে তার ওপর চলে অমানুসিক নির্যাতন। পরবর্তীতে চক্রটি তাকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যায় এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি পা কেটে ফেলে। পঙ্গু বানিয়ে তাকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। ভিক্ষা থেকে পাওয়া সমুদয় অর্থ কেড়ে নিত সেই চক্রটি।
রোববার সকালে লোহাগাড়ার চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় ভিক্ষা করার সময় রায়হানকে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার। কাছ থেকে দেখে তারা রায়হানকে চিনতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে বাবা নাজিম উদ্দিন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে শনাক্ত করে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন।
সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও শিশুটির সঙ্গে ঘটা এমন নারকীয় ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীরা এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। রায়হানের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে কক্সবাজার ও ঢাকার কমলাপুর কেন্দ্রিক পঙ্গু বানিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা এই সংঘবদ্ধ চক্রটিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।