
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাদককারবারিদের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় মাদকবিরোধী কমিটির ৬ যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার ৮ নম্বর সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কদমরসুল এলাকার কেশবপুরে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অপরাধে ওই যুবকদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আহসান হাবিব, মো. সায়েম, ফসিউদ্দিন নিজামী, মো. নূরউদ্দিন, মো. হাসান ও মো. সহিদ। তাদের সবার বাড়ি কদমরসুল গ্রামের কেশবপুরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কদমরসুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সেবন বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার সচেতন নাগরিকরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে একটি মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেন। কমিটি এলাকায় একটি মাদকবিরোধী সমাবেশেরও আয়োজন করে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর। কমিটির সদস্যরা মাদক ব্যবসা ও সেবনের প্রতিবাদ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেন।
এরপর থেকেই স্থানীয় কিছু মাদককারবারী কমিটির সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে মাদককারবারীরা। গত বুধবার এর প্রতিবাদে এলাকায় একটি মানববন্ধনেরও আয়োজন করা হয়।
এদিকে, মাদককারবারীদের দায়ের করা মামলায় জামিন নিতে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির হলে আদালত ৬ জনের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এলাকাবাসী বলেন, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী কমিটি হচ্ছে, সভা-সেমিনার হচ্ছে। কিছুদিন আগেও উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের এক বিশাল মাদকবিরোধী সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। অথচ মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো গ্রেফতার হচ্ছেন প্রতিবাদকারীরাই।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী বলেন, “মাদক নির্মূলের কাজে প্রশাসন যখন সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়, তখন মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সচেতন নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষ কার ওপর আস্থা রাখবে? আমরা বিশ্বাস করি, মাদক নির্মূল করতে হলে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের মূল উৎসের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে; কোনোভাবেই মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়।”