
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী আয়োজিত এই লংমার্চে বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সীতাকুণ্ড হয়ে হাজারো গাড়িবহরের লংমার্চটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।
[caption id="attachment_13856" align="alignnone" width="288"]
ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে লংমার্চের একাংশ[/caption]
যাত্রার সূচনা ও মূল দাবি
সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে লংমার্চের বহরে যুক্ত হন। ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া এই লংমার্চে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কর’, ‘গণভোটের রায় মানতে হবে’, এবং ‘সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি দূর কর’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
সীতাকুণ্ডে পথসভা ও ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য
লংমার্চের বহরটি সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের উত্তর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে এক বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিগত ছয় মাসে সরকার কয়েকটি কার্ড বিতরণ ছাড়া জনগণকে আর কিছুই দিতে পারেনি।

সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার জন্য। আপনাদের ঘরে গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আমাদের এই লড়াই। জুলাই সনদের শর্তাবলি ও জনগণের নায্য দাবি বাস্তবায়ন না করলে, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সরকার পতনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হতে পারি।”
এ সময় স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সীতাকুণ্ডসহ সারা দেশে আজও চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাস থামেনি। দেশজুড়ে মাদকের বিস্তারে যুবসমাজ আজ ধ্বংসের মুখে। যুবসমাজ ও দেশকে বাঁচাতে সব ধরনের দুর্নীতি কঠোরহস্তে দমন করার আহ্বান জানান তিনি।

লালদিঘি ময়দানে সমাপনী ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি
সীতাকুণ্ডে পথসভা শেষে হাজারো নেতাকর্মী ও গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চের বহরটি চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। লালদিঘি চত্বরে পৌঁছানোর পর সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।
দিনব্যাপী এই লংমার্চ ও পথসভায় জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।